10:28 pm, Wednesday, 24 June 2026

তফসিল ঘোষণার আগেই শিবগঞ্জে নির্বাচনী হাওয়া – আলোচনার শীর্ষে আরমান

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:04:09 pm, Monday, 22 June 2026
  • 25 Time View
৩১

​​মিজানুর রহমান(বগুড়া):-আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না করলেও, মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা পুরোদমে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময় সভা, সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ধুম লেগেছে। রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, এবার শিবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে পৌরসভাটি ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে এবং নিকার (NICAR) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এর সীমানা সম্প্রসারিত হয়ে আরও ৮টি নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পৌরসভার এই ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে ভোটার এবং প্রার্থীদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় নির্বাচনী মাঠে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ও স্থানীয় যুবনেতা খালিদ হাসান আরমান ইতোমধ্যে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ভোটার ও তরুণ সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে তিনি নিজের জনপ্রিয়তা জানান দিচ্ছেন। পৌরসভা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে ঘিরে আশাবাদী।

​অন্যদিকে,মাঠের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। দলের একাধিক স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে এক ধরনের সতর্কতা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে।
​এর বাইরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মনোনীত প্রার্থীও নির্বাচনী মাঠে নিজেদের মতো করে সক্রিয় রয়েছেন এবং স্বকীয় অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তফসিল ঘোষণার পর দলীয় সমীকরণ ও প্রার্থী তালিকা আরও স্পষ্ট হবে।

পৌরসভার পরিধি বৃদ্ধি এবং ‘খ’ শ্রেণিতে রূপান্তরের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার পারদ এখন অনেক উঁচুতে। সচেতন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেবল আশ্বাসে নয়, বরং কাজের মানুষকে বেছে নিতে চান। এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এলাকাগুলোর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি—এসব ইস্যুই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডায় এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
​স্থানীয় ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে শিবগঞ্জ পৌরসভা এমন এক নেতৃত্ব পাবে, যারা দক্ষ ও জনবান্ধব হয়ে এই জনপদের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কথিত নৈরাজ্য,  অস্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে বিএনপির  প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল

তফসিল ঘোষণার আগেই শিবগঞ্জে নির্বাচনী হাওয়া – আলোচনার শীর্ষে আরমান

Update Time : 04:04:09 pm, Monday, 22 June 2026
৩১

​​মিজানুর রহমান(বগুড়া):-আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়ার শিবগঞ্জ পৌর এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা ক্রমেই জোরদার হচ্ছে। নির্বাচন কমিশন এখনো আনুষ্ঠানিক তফসিল ঘোষণা না করলেও, মাঠপর্যায়ে সম্ভাব্য প্রার্থীরা পুরোদমে গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী ও সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুভেচ্ছা বিনিময়, মতবিনিময় সভা, সামাজিক-ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয়ের চেষ্টা চালাচ্ছেন। বিশেষ করে সদ্য সমাপ্ত ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে ব্যানার, ফেস্টুন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার ধুম লেগেছে। রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, এবার শিবগঞ্জ পৌরসভার নির্বাচন ভিন্ন মাত্রা পাচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে পৌরসভাটি ‘গ’ শ্রেণি থেকে ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়েছে এবং নিকার (NICAR) বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এর সীমানা সম্প্রসারিত হয়ে আরও ৮টি নতুন এলাকা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। পৌরসভার এই ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক পরিবর্তনের কারণে ভোটার এবং প্রার্থীদের মাঝে বাড়তি উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা যাচ্ছে।

স্থানীয় নির্বাচনী মাঠে সরকার সমর্থিত প্রার্থীদের মধ্যে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধি ও স্থানীয় যুবনেতা খালিদ হাসান আরমান ইতোমধ্যে বেশ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন। ভোটার ও তরুণ সমাজের সঙ্গে যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক কাজের মাধ্যমে তিনি নিজের জনপ্রিয়তা জানান দিচ্ছেন। পৌরসভা সম্প্রসারণ ও উন্নয়নে অগ্রণী ভূমিকা রাখায় সাধারণ ভোটারদের একটি বড় অংশ তাকে ঘিরে আশাবাদী।

​অন্যদিকে,মাঠের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে। দলটির সম্ভাব্য প্রার্থী শেষ পর্যন্ত নির্বাচনে অংশ নেবেন কি না, তা নিয়ে ধোঁয়াশা কাটছে না। দলের একাধিক স্তরের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা এ বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কিছু নেতাকর্মী জানান, অভ্যন্তরীণ কোন্দল বা রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে মেয়র পদে প্রার্থী হওয়া নিয়ে এক ধরনের সতর্কতা বা দ্বিধাদ্বন্দ্ব কাজ করছে।
​এর বাইরে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর মনোনীত প্রার্থীও নির্বাচনী মাঠে নিজেদের মতো করে সক্রিয় রয়েছেন এবং স্বকীয় অবস্থান তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, তফসিল ঘোষণার পর দলীয় সমীকরণ ও প্রার্থী তালিকা আরও স্পষ্ট হবে।

পৌরসভার পরিধি বৃদ্ধি এবং ‘খ’ শ্রেণিতে রূপান্তরের পর স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশার পারদ এখন অনেক উঁচুতে। সচেতন ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা কেবল আশ্বাসে নয়, বরং কাজের মানুষকে বেছে নিতে চান। এলাকার পরিকল্পিত উন্নয়ন, নাগরিক সেবার মানোন্নয়ন, নতুন অন্তর্ভুক্ত হওয়া এলাকাগুলোর সড়ক ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন, শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার এবং স্থানীয় তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি—এসব ইস্যুই এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার আড্ডায় এখন সম্ভাব্য প্রার্থীদের সততা, যোগ্যতা ও দূরদর্শিতা নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ।
​স্থানীয় ভোটাররা প্রত্যাশা করছেন, একটি সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এর মাধ্যমে শিবগঞ্জ পৌরসভা এমন এক নেতৃত্ব পাবে, যারা দক্ষ ও জনবান্ধব হয়ে এই জনপদের সার্বিক উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবেন।