রৌমারীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে নারীর মৃত্যু, মারা গেছে ৪ গবাদিপশু; ক্ষতিগ্রস্ত বসতঘর
রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ৬নং চরশৌলমারী ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের কাজাইকাটা গ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শাহিদা খাতুন (৪৭) নামে এক নারীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় দুটি ষাঁড় গরু, দুটি ছাগল মারা গেছে এবং একটি বসতঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) দুপুর প্রায় ২টার দিকে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহত শাহিদা খাতুন কাজাইকাটা গ্রামের বাসিন্দা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে শোকের মাতম নেমে এসেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুরের দিকে গ্রামের একটি বিদ্যুৎ লাইনের ওপর একটি বাঁশ ভেঙে পড়ে। এতে বিদ্যুতের তারে শর্টসার্কিট সৃষ্টি হয়ে আগুন ধরে যায়। কিছু সময় পর আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে নিচে পড়ে। এ সময় শাহিদা খাতুন বাড়ির পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারের সংস্পর্শে এসে গুরুতরভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
এদিকে ছিঁড়ে পড়া বিদ্যুতের তারে বিদ্যুৎ প্রবাহিত থাকায় পাশের দুটি ষাঁড় গরু ও দুটি ছাগলও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়। আগুনের তাপ ও বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিটের কারণে একটি বসতঘরের আংশিক ক্ষয়ক্ষতিও হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিকট শব্দের পর বিদ্যুতের তারে আগুন জ্বলতে দেখা যায়। পরে তার ছিঁড়ে মাটিতে পড়লে আশপাশের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। স্থানীয়রা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধের চেষ্টা করেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মমিন হোসেন বলেন, “বিদ্যুতের লাইনের ওপর বাঁশ পড়ে আগুন লাগে। পরে তার ছিঁড়ে পড়ে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে একজন নারী নিহত হয়েছেন। এছাড়া দুটি ষাঁড় গরু, দুটি ছাগল মারা গেছে এবং একটি ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।”
ঘটনার পর নিহতের বাড়িতে স্বজন, প্রতিবেশী ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা ভিড় করেন। নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, শাহিদা খাতুন ছিলেন পরিবারের অন্যতম উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার মৃত্যুতে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, গ্রামীণ এলাকায় অনেক স্থানে বিদ্যুতের তার ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নিয়মিত তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটছে। তারা দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আর্থিক সহায়তা এবং ঝুঁকিপূর্ণ বিদ্যুৎ লাইন সংস্কারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে স্থানীয়রা বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি তদন্ত, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক মূল্যায়ন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

