9:46 pm, Saturday, 20 June 2026

রৌমারী-রাজিবপুরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: উৎপাদন ঘাটতির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা

  • Reporter Name
  • Update Time : 04:52:38 pm, Sunday, 7 June 2026
  • 12 Time View
১২


নিজস্ব প্রতিবেদক | রৌমারী-রাজিবপুর
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণেই এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি ডিজিএমের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। তাদের অভিযোগ, একই উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া সত্ত্বেও জামালপুর ও শেরপুর জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক থাকলেও রৌমারী ও রাজিবপুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের বৈষম্যের শিকার মনে করছেন।
এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও অভিযোগও দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, বিদ্যুতের একটি অংশ চুক্তিভিত্তিক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আর্থিক দায় বা পাওনা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
রৌমারী ও রাজিবপুরের বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বৈষম্য বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা জনসম্মুখে স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত উৎপাদন ঘাটতির বাইরে অন্য কোনো কারণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভালো বেতনের চাকুরির দেওয়ার প্রলোভন দেকিয়ে নোয়াখালীর যুবক কে কালীগঞ্জে ডেকে এনে অপহরণ করে মুক্তি পনের জন্য নির্যাতন চার যুবক আটক

রৌমারী-রাজিবপুরে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট: উৎপাদন ঘাটতির ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয়রা

Update Time : 04:52:38 pm, Sunday, 7 June 2026
১২


নিজস্ব প্রতিবেদক | রৌমারী-রাজিবপুর
কুড়িগ্রামের রৌমারী ও রাজিবপুর উপজেলায় চলমান তীব্র বিদ্যুৎ সংকট নিয়ে জনমনে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে। দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন থাকায় সাধারণ মানুষ, ব্যবসায়ী, শিক্ষার্থী ও রোগীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন।
বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে জামালপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম দেলোয়ার হোসেন সাংবাদিকদের জানান, বিদ্যুৎ উৎপাদন স্বল্পতার কারণেই এ সংকট সৃষ্টি হয়েছে। জাতীয় গ্রিডে চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় লোডশেডিং বৃদ্ধি পেয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয়দের দাবি, বাস্তব পরিস্থিতি ডিজিএমের বক্তব্যের সঙ্গে পুরোপুরি মিলছে না। তাদের অভিযোগ, একই উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া সত্ত্বেও জামালপুর ও শেরপুর জেলার অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ স্বাভাবিক থাকলেও রৌমারী ও রাজিবপুরে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। ফলে এ অঞ্চলের মানুষ নিজেদের বৈষম্যের শিকার মনে করছেন।
এ নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও অভিযোগও দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, বিদ্যুতের একটি অংশ চুক্তিভিত্তিক অন্যত্র সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার কেউ বলছেন, সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আর্থিক দায় বা পাওনা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে সরবরাহে প্রভাব পড়ছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে ব্যবসা-বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হচ্ছে এবং প্রচণ্ড গরমে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।
রৌমারী ও রাজিবপুরের বাসিন্দারা দ্রুত বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বৈষম্য বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে তা জনসম্মুখে স্পষ্ট করারও দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত উৎপাদন ঘাটতির বাইরে অন্য কোনো কারণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।