বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বিজিবি’র প্রতি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশ-

৬২

নিজেস্ব প্রতিবেদক:

বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পেশাদারিত্ব বজায় রাখতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যদের প্রতি নির্দেশ দিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মন্ত্রী আজ দুপুরে ঢাকায় বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানায় শহীদ শাকিল আহমেদ মিলনায়তনে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় বিজিবি সদস্যদের প্রতি দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদানকালে এ নির্দেশ দেন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোঃ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। সভায় ভিডিও টেলিকনফারেন্সের (VTC) মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের সকল ব্যাটালিয়ন ও বিওপি থেকে বিজিবি সদস্যরা সংযুক্ত ছিলেন। এছাড়া স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ এতে উপস্থিত ছিলেন।

মন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনী অঙ্গীকার ও ১৮০ দিনের বিশেষ কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত পাঁচ মাসে বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধিতে অভূতপূর্ব অগ্রগতি সাধিত হয়েছে। মন্ত্রী জানান,স্মার্ট সীমান্ত ব্যবস্থাপনার আওতায় নতুন বিওপি স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি, ড্রোন প্রযুক্তি, নাইট ভিশন ও থার্মাল ক্যামেরা সংযোজন এবং আধুনিক নজরদারি ব্যবস্থা সম্প্রসারণের মাধ্যমে বিজিবিকে একটি বিশ্বমানের আধুনিক ও ত্রিমাত্রিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান ।

বাহিনীর শৃঙ্খলা ও চেইন অভ কমান্ড বজায় রাখার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর মূল ভিত্তিই হলো তার কঠোর শৃঙ্খলা। মন্ত্রী বিজিবি সদস্যদের যেকোনো ধরনের গুজব, অপপ্রচার বা উসকানিতে বিভ্রান্ত না হয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব ও স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে অর্পিত দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। আরো বলেন, বাজেট ও সম্পদের বাস্তব সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও সরকার ধাপে ধাপে বিজিবির যৌক্তিক প্রয়োজন এবং আবাসন ও কল্যাণমূলক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধিতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ৪,৪২৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত নিরাপত্তা রক্ষা, দেশের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিতকরণ, জাতীয় সংকট মোকাবিলা, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, মানবিক সহায়তা এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় বিজিবি বরাবরই দক্ষতা, পেশাদারিত্ব ও দেশপ্রেমের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

বিশেষ করে, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় নির্বাচনে বিজিবি অত্যন্ত নিরপেক্ষ,পেশাদার ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করে দেশ-বিদেশে ব্যাপক প্রশংসা অর্জন করেছে।

মন্ত্রী সাম্প্রতিক সময়ে সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং জোরপূর্বক পুশইনের অপচেষ্টা অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে প্রতিহত করার জন্য বিজিবির ভূয়সী প্রশংসা করেন। মন্ত্রী বলেন, বিজিবির দৃঢ় অবস্থানের কারণে বর্তমানে পুশইনের অপচেষ্টা কার্যত শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছে, যা দেশের স্বার্থ রক্ষায় এক অভূতপূর্ব সাফল্য। এছাড়া মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান দমন, মানবপাচার প্রতিরোধ এবং সীমান্তবর্তী জনগণের বিকল্প কর্মসংস্থান ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে বিজিবির মানবিক কর্মকাণ্ডের প্রশংসা করেন।

উল্লেখ্য, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরে পৌঁছালে বিজিবির একটি সুসজ্জিত চৌকস দল তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করে। পরে বিজিবির অপারেশনাল, প্রশিক্ষণ, প্রশাসনিক এবং চলমান উন্নয়নমূলক কার্যক্রম সম্পর্কে ব্রিফিংয়ের মাধ্যমে মন্ত্রীকে বিস্তারিত অবহিত করা হয়।

মতবিনিময় সভা শেষে মন্ত্রী বিজিবি সদর দপ্তরের পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন। তিনি পিলখানাস্থ বিজিবির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বিশেষ করে সীমান্ত গৌরব, ২০০৯ শহীদ স্মৃতিস্তম্ভ এবং দীপ্ত সীমান্ত বিশেষায়িত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেন এবং সীমান্ত কুঞ্জ এলাকায় বৃক্ষরোপণ করেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *