রৌমারী গ্রামে ঐতিহ্যবাহী ঈদে মিলাদুন্নবী উদযাপন: এক হাড়ি খিঁচুড়িতে ১২০০ পরিবারের ৬ সহস্রাধিক মানুষের ভূরিভোজ

১৯৮

সামিউল ইসলাম
রৌমারী(কুড়িগ্রাম)প্রতিনিধি:

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, সম্প্রীতি ও অভূতপূর্ব ঐক্যের মধ্য দিয়ে কুড়িগ্রাম জেলার রৌমারী থানাধীন রৌমারী গ্রামে প্রতিবারের ন্যায় এবারও উদযাপিত হলো পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.)। রৌমারী গ্রাম জামে মসজিদ পরিচালনা কমিটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ও গ্রামবাসীর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই মিলাদুন্নবী মাহফিলের মূল আকর্ষণ ছিল এক হাড়িতে বিশালাকারের খিঁচুড়ি রান্না ও সামাজিক বণ্টন। রৌমারী গ্রাম সমাজের ১২০০ পরিবারের প্রায় ৬ হাজারেরও বেশি মানুষের জন্য এক জায়গায় এক হাড়িতে রান্না ও বিতরণের এই বিশালাকার আয়োজন কেবল রৌমারী বা কুড়িগ্রামেই নয়, বরং সমগ্র বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে এক বিরল ও অনন্য দৃষ্টান্ত। কঠোর পরিশ্রমের ফসল ও শৃঙ্খলাবদ্ধ বণ্টন উৎসবের আবহ ও রন্ধনযজ্ঞের প্রস্তুতি শুরু হয় ২৫ আগস্ট ২০২৬ রাত থেকেই। সারারাত অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রস্তুতি শেষে ২৬ আগস্ট ২০২৬ সকালে রৌমারী গ্রাম জামে মসজিদে সকাল ৮টা মিনিটে দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে সুশৃঙ্খল পরিবেশের মধ্য দিয়ে খিঁচুড়ি বণ্টন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়। রৌমারী গ্রাম সমাজের সর্বস্তরের মানুষ সারিবদ্ধভাবে দাঁড়িয়ে যার যার সামাজিক টিকিট ও সদস্য সংখ্যা অনুযায়ী খিচুড়ি সংগ্রহ করে নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। পুরো বণ্টন প্রক্রিয়ায় লক্ষ্য করা গেছে অভূতপূর্ব ব্যবস্থাপনা ও সামাজিক শৃঙ্খলা। যাদের নিরলস চেষ্টায় এই অসাধ্য সাধন
এই বিশাল সামাজিক মহাযজ্ঞ সফল করতে রৌমারী গ্রাম জামে মসজিদ কমিটি ও স্থানীয় একঝাঁক স্বেচ্ছাসেবী রাত-দিন কঠোর পরিশ্রম করেছেন। যাদের যৌথ নেতৃত্ব ও নিবেদিত প্রচেষ্টায় এই অসাধ্য সাধন সম্ভব হয়েছে, তারা হলেন: সভাপতি: জনাব মোঃ নুরুজ্জামান সরদার (রৌমারী গ্রাম জামে মসজিদ) সাধারণ সম্পাদক: জনাব মোঃ শামসুল হক (রৌমারী গ্রাম জামে মসজিদ) কার্যনির্বাহী কমিটি ও স্বেচ্ছাসেবকবৃন্দ: জনাব শাহ্ মোহাম্মদ আব্দুল মোমেন, জনাব মোঃ মনজুরুল ইসলাম (মঞ্জু), জনাব মোঃ রুমান, জনাব মোঃ রোজাইন রাজ, মোঃ মুরাদ, মোঃ মুকুল, জনাব মোঃ আব্দুস সবুর, মোঃ মাইদুল ইসলাম মোঃ ইসরাফিল, মোঃ সাইফুল ইসলাম, মোঃ সিয়া, মোঃ নুরকালাম, মোঃ সীন, মোঃ খোরশেদ, খন্দকার মোহাম্মদ জাকির, লাবু, নয়ন, রবিউল সহ সমাজের আরও বহু গণ্যমান্য ও আত্মনিবেদিত প্রাণ ব্যক্তিত্ব। গতকাল ২৫-০৮-২৬ মঙ্গলবার সন্ধ্যা থেকে এই কার্যক্রম শুরু হয় পরে রাতে সার্বিক পরিস্থিতি দেখতে আসেন রৌমারীর সুযোগ্য অফিসার ইনচার্জ জনাব কাওসার আলী।
ঐক্যের প্রতীক রৌমারী গ্রাম বর্তমান আধুনিক সমাজে যখন মানুষের মধ্যকার সামাজিক বন্ধন ও পারস্পারিক ভ্রাতৃত্ববোধ দিন দিন শিথিল হয়ে আসছে, তখন রৌমারী গ্রামের এই দৃষ্টান্ত ধর্মীয় উৎসব উদযাপনের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক ও সামাজিক ঐক্যের এক অনন্য স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়রা জানান, এটি কেবল খিঁচুড়ি বিতরণ নয়, বরং রৌমারী গ্রামবাসীর পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও একতার প্রতিচ্ছবি। আগামীতেও এই ঐতিহ্য ধরে রাখার আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন আয়োজক কমিটি ও গ্রামের সাধারণ মানুষ।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *