খানসামায় হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে বিদ্যালয় ত্যাগের অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে

৪৯

দিনাজপুর প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের খানসামা উপজেলার ১০৭ নম্বর উত্তর সুর্বনখুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম খলিল (লাবু)-এর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যালয়ে এসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে চলে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগের ভিত্তিতে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে সহকারী শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রধান শিক্ষক ইব্রাহীম খলিল বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত সকাল ৯টার আগে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। এরপর সংশ্লিষ্ট সাব-ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার হোয়াটসঅ্যাপে উপস্থিতির তথ্য পাঠিয়ে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সহকারী শিক্ষকরা জানান, গত ১৫ জুন ২০২৬ থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী সকল শিক্ষককে সকাল ৯টার পূর্বে বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে উপস্থিতির তথ্য পাঠাতে হয়। প্রধান শিক্ষক ওই নির্দেশনা অনুসরণ করে উপস্থিতি নিশ্চিত করলেও নিয়মিত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেন না বলে তারা দাবি করেন।

তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বৃদ্ধি কিংবা প্রশাসনিক তদারকিতে প্রধান শিক্ষকের কার্যকর ভূমিকা দেখা যায় না। সরেজমিনে বিদ্যালয়ে উপস্থিত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল— প্রাক-প্রাথমিক ৩২ জন, প্রথম শ্রেণি ১৪ জন, দ্বিতীয় শ্রেণি ১২ জন, তৃতীয় শ্রেণি ৫ জন, চতুর্থ শ্রেণি ৩ জন এবং পঞ্চম শ্রেণি ৩ জন।

সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা আরও জানান, প্রধান শিক্ষক শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকায় প্রায়ই ছেলের মোটরসাইকেলে বিদ্যালয়ে এসে শুধু স্বাক্ষর করে চলে যান। তারা বলেন, অসুস্থ হলে নিয়ম অনুযায়ী মেডিকেল ছুটি নেওয়ার সুযোগ থাকলেও তিনি কেন তা গ্রহণ করছেন না, সেটি তাদের বোধগম্য নয়।

এ বিষয়ে পাকেরহাট সাব-ক্লাস্টারের সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি হুসনে মোবারক বলেন, “মঙ্গলবার প্রধান শিক্ষক ছুটিতে ছিলেন। তিনি নিয়মিত স্বাক্ষর করে চলে যান—এমন অভিযোগের বিষয়ে আমার কাছে সুনির্দিষ্ট তথ্য নেই। সব বিদ্যালয় সবসময় তদারকি করা সম্ভব হয় না।”
তিনি আরও জানান, গত ১ জুলাই ২০২৬ দুপুর প্রায় ১টা ৩০ মিনিট থেকে আড়াইটা পর্যন্ত বিদ্যালয়ে অবস্থান করেও প্রধান শিক্ষককে না পেয়ে হাজিরা খাতায় বিষয়টি উল্লেখ করে স্বাক্ষর করেন।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান শিক্ষক মো. ইব্রাহীম খলিলের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

খানসামা উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন কবির তালুকদার বলেন, “তিনি কিছুদিন মেডিকেল ছুটিতে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরে সুস্থ হয়ে নিয়মিত ক্লাস নিচ্ছেন বলেই আমি জানি। বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ সুস্থ কিনা, সে বিষয়ে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই।”

এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ. এম. শাহাজাহান সিদ্দিক বলেন, “অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

এদিকে, স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, দায়িত্বে অবহেলা ও নিয়মিত তদারকির অভাবে খানসামা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষার মান দিন দিন ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তারা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *