চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ৪৫ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারি গ্রেপ্তারমোঃ নাঈম উদ্দীনবিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় জেলা পুলিশের বিশেষ মাদকবিরোধী অভিযানে ৪৫ পিস নিষিদ্ধ টাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ দুই মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের একটি চৌকস দল। গত বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) রাতে উপজেলার পাইকপাড়া গ্রামের দাসপাড়া এলাকা থেকে তাদের আটক করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, অভিযানে আটককৃত দুই ব্যক্তির বিস্তারিত পরিচয় হলো:
মোঃ শাহিন আলী (৩২): পিতা- মৃত মতিয়ার রহমান, গ্রাম- রাধিকাগঞ্জ (পশুহাট), উপজেলা- আলমডাঙ্গা, জেলা- চুয়াডাঙ্গা।
মোঃ মিন্টু (২৪): পিতা- মোঃ ইদ্রিস আলী বিশ্বাস, গ্রাম- কাকিলাদাহ (ক্যানেলপাড়া), উপজেলা- মিরপুর, জেলা- কুষ্টিয়া।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান-এর দিকনির্দেশনায় ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে বর্তমানে জেলাজুড়ে মাদক ও চোরাচালান বিরোধী বিশেষ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে।
এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ জুলাই রাতে পাইকপাড়া পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোঃ ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল নিয়মিত টহল ও বিশেষ অভিযানে নামে।
রাত আনুমানিক ১১টা ৪৫ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে যে, আলমডাঙ্গা থানার পাইকপাড়া দাসপাড়া গ্রামের সাইদুরের চায়ের দোকানের সামনে পাকা রাস্তার ওপর কিছু মাদক কারবারি অবস্থান করছে।
তৎক্ষণাৎ এসআই ওয়াহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশের দলিত ওই স্থানে পৌঁছে চারদিক থেকে ঘেরাও করে শাহিন আলী ও মোঃ মিন্টুকে আটক করে। পরবর্তীতে তাদের শরীর ও হেফাজতে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫ পিস নিষিদ্ধ মাদকদ্রব্য টাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিয়মমাফিক জব্দ তালিকা প্রস্তুত করে আলামতগুলো নিজেদের হেফাজতে নেয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ও তদন্তে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জানা গেছে, উদ্ধারকৃত এই টাপেন্টাডল ট্যাবলেটগুলো ক্রয়-বিক্রয়, নিজেদের দখলে রাখা এবং এর পেছনে অর্থায়ন ও পৃষ্ঠপোষকতার সাথে গ্রেপ্তারকৃত দুজন ছাড়াও আরও অন্তত ২ জন চিহ্নিত পলাতক আসামি এবং অজ্ঞাতনামা ৭ থেকে ৮ জন ব্যক্তি জড়িত রয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বানী ইসরাঈল গণমাধ্যমকে জানান, “মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামিসহ পলাতক এবং নেপথ্যের মদদদাতাদের বিরুদ্ধে আলমডাঙ্গা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।”
তিনি আরও কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, মাদকের বিষাক্ত ছোবল থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের বিশেষ অভিযান ও চিরুনি তল্লাশি অব্যাহত থাকবে।

