রৌমারী টু সুতির পাড় গ্রামের চিরস্থায়ী দুঃখ— ‘আলমের ব্রিজ’!

৫৮

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

একটি ব্রিজ শুধু দুই প্রান্তকে সংযুক্ত করে না, মানুষের জীবন, শিক্ষা, চিকিৎসা ও অর্থনীতিরও সেতুবন্ধন তৈরি করে। অথচ কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার রৌমারী থেকে সুতির পাড় গ্রামের মাঝামাঝি অবস্থিত বহুল পরিচিত ‘আলমের ব্রিজ’ বছরের পর বছর ধরে মানুষের দুর্ভোগের প্রতীক হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

জরাজীর্ণ ও নড়বড়ে বাঁশের এই সাঁকো দিয়েই প্রতিদিন শত শত মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হন। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কৃষক, দিনমজুর, ব্যবসায়ী, নারী ও শিশু—সবার জন্যই এটি এক আতঙ্কের নাম। সামান্য অসাবধানতাই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের দুর্ঘটনা।

সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন অসুস্থ ও জরুরি চিকিৎসাপ্রার্থী মানুষ। কোনো মুমূর্ষু রোগী কিংবা গর্ভবতী মাকে হাসপাতালে নেওয়ার সময় এই নড়বড়ে সাঁকো পার হওয়া হয়ে ওঠে অত্যন্ত কষ্টকর ও ঝুঁকিপূর্ণ। রোগী বহনকারী ভ্যান, মোটরসাইকেল বা স্ট্রেচার নিয়ে পারাপারের সময় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। অনেক সময় বিলম্বের কারণে রোগীর জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নির্বাচন এলেই জনপ্রতিনিধিরা পাকা ব্রিজ নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু নির্বাচন শেষ হলে সেই প্রতিশ্রুতিও হারিয়ে যায়। বছরের পর বছর কেটে গেলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে এলাকাবাসী আজও অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার।

স্থানীয়দের দাবি, একটি পাকা কংক্রিটের ব্রিজ নির্মাণ হলে শুধু যাতায়াতের দুর্ভোগই কমবে না, বরং শিক্ষা, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং জরুরি স্বাস্থ্যসেবাও অনেক সহজ হবে। এতে এলাকার সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

রৌমারী ও সুতির পাড় গ্রামের হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এবং জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

প্রশ্ন একটাই—আর কতদিন? মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘আলমের ব্রিজ’-এর স্থানে কবে নির্মিত হবে একটি টেকসই পাকা সেতু?

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *