চুয়াডাঙ্গার ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ

১৭

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি
২৩/০৮/২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার

চুয়াডাঙ্গা জেলার একমাত্র ও খুলনা বিভাগের প্রথম বেসরকারী ‘ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এর দখল ও ট্রাস্টি বোর্ডের বৈধতা নিয়ে দুই পক্ষের মুখোমুখি অবস্থানের কারণে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।

উত্তপ্ত পরিস্থিতির মুখে আজ বৃহস্পতিবার ২৩/০৭/২০২৬ ইং বিশ্ববিদ্যালয়ে নোটিশ ঝুলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান, চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুন পরিবারের হাতেই এতদিন এর প্রশাসনিক ও আর্থিক নিয়ন্ত্রণ ছিল।

তবে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চিঠি ও যৌথ মূলধনী কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরের (জয়েন্ট স্টক) কাগজপত্রের বরাতে প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের ট্রেজারার মো. আলীম উদ্দিন লস্কর ও আব্দুর রাজ্জাকের নেতৃত্বাধীন পক্ষটি এখন বিশ্ববিদ্যালয়ের দায়িত্ব বুঝে নিতে চাচ্ছেন।

এরই অংশ হিসেবে গত মঙ্গলবার ও বুধবার তারা ক্যাম্পাসে অবস্থান নেন এবং রেজিস্ট্রারের কক্ষসহ গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অফিসে তালা ঝুলিয়ে দেন, যা পরে খুলে দেওয়া হয়।
আলীম লস্করদের পক্ষের দাবি, রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ২০১৪ সালে মূল আইনগত ভিত্তি ছাড়াই নতুন ট্রাস্টি বোর্ড গঠন করে সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দার সেলুনের পরিবারের একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়।

পরবর্তীতে জয়েন্ট স্টকের অনুমোদন সাপেক্ষে ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করে মো. আলীম উদ্দিন লস্করকে চেয়ারম্যান, আব্দুর রাজ্জাককে সেক্রেটারি এবং তানভীর হুদাকে ট্রেজারার মনোনীত করা হয়েছে। ফলে বর্তমান কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরে বাধা সৃষ্টির সুযোগ নেই।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে দীর্ঘদিনের চরম আর্থিক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ উঠেছে। ইউজিসি ও সরকারি নীতিমালা উপেক্ষা করে যোগ্যতা ছাড়া বিতর্কিত নিয়োগ, পদ তৈরি ও শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনার কথা জানিয়েছে ভুক্তভোগী পক্ষ।

সবচেয়ে বড় অভিযোগ হিসেবে উঠে এসেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থায়ী আমানতের (এফডিআর) সংরক্ষিত দেড় কোটি টাকা নিয়ম বহির্ভূতভাবে তুলে নিয়ে আত্মসাৎ এবং শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অননুমোদিত ফি আদায়।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলা ও গুরুতর অনিয়মের এসব তথ্য উঠে এলেও অপর পক্ষের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

অভিযুক্ত ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দার শান্তর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফেরাতে জরুরি পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *