কালীগঞ্জ থানার ওসির সামনেই পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলা: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ
নিজস্ব প্রতিবেদক :–
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)-এর সামনেই দুই সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় নির্যাতিত, নিপীড়িত ও সুবিধাবঞ্চিত সাংবাদিকদের সংগঠন বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) গভীর উদ্বেগের সঙ্গে তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।
গত ১৮ জুলাই (শনিবার) বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান এবং সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার স্বাক্ষরিত এক যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ১৭ জুলাই (শুক্রবার) রাতে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থানার সামনে কয়েকজন ব্যক্তি কয়েকজন নারীর ওপর হামলা চালায়।
ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেল্লাল হোসেন ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই দৈনিক যুগান্তর ও দীপ্ত টিভি-এর সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ এবং নাগরিক টিভি-এর সাংবাদিক মিশন আলী-এর ওপর সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়।
হামলায় আহত দুই সাংবাদিককে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিয়েছেন।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি খান সেলিম রহমান বলেন,«“থানার ওসি ও উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই পেশাগত দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকদের ওপর প্রকাশ্যে হামলার ঘটনা শুধু ন্যক্কারজনকই নয়, এটি স্বাধীন গণমাধ্যম, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং আইনের শাসনের ওপর সরাসরি আঘাত।
মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায় থানায় যায়। সেই থানার প্রধান কর্মকর্তা ওসি এবং উপস্থিত পুলিশ সদস্যদের সামনেই যদি সাংবাদিকদের ওপর হামলা সংঘটিত হয়, তবে এটি কোনোভাবেই ছোট বা সাধারণ ঘটনা নয়; বরং এটি সংশ্লিষ্ট থানার আইনশৃঙ্খলা,ব্যবস্থা এবং জনগণের আস্থার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। হামলাকারীরা যে-ই হোক না কেন, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।”»
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ মাহিদুল হাসান সরকার বলেন,«“পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় থানার ওসি ও পুলিশের সামনেই সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি সত্য প্রকাশের অধিকার, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং জনগণের তথ্য জানার সাংবিধানিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত। ভয়ভীতি, হামলা কিংবা সন্ত্রাসের মাধ্যমে সত্যকে কখনো স্তব্ধ করা যায় না। গণমাধ্যমকে দমনের যেকোনো অপচেষ্টা গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার ও আইনের শাসনের পরিপন্থী। মানুষ ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য থানায় আশ্রয় নেয়। সেই থানার, ওসি ও পুলিশ সদস্যদের উপস্থিতিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক, নিন্দনীয় এবং রাষ্ট্রের জন্য উদ্বেগের বিষয়। সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।”»
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর পক্ষ থেকে এই ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা, প্রতিবাদ ও গভীর ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে রাষ্ট্র ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে, ঘটনার সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে হামলার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।
এ ছাড়া খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি, ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক এবং ঝিনাইদহ জেলার পুলিশ সুপারের প্রতি জরুরি ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করা হচ্ছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় এবং ভবিষ্যতে সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাংবাদিকের কলমকে স্তব্ধ করা যায় না, সত্যের কণ্ঠ কখনো রুদ্ধ করা যায় না।
একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম পূর্বশর্ত। সাংবাদিকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলার সুষ্ঠু তদন্ত, নিরপেক্ষ বিচার এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত হলেই আইনের শাসনের প্রতি জনগণের আস্থা আরও সুদৃঢ় হবে এবং স্বাধীন সাংবাদিকতা তার যথাযথ মর্যাদা লাভ করবে।
বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C) দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে কলম চলবেই, সাংবাদিকতার পথ কখনো রুদ্ধ করা যাবে না। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করাই ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার প্রকৃত প্রতিফলন।

