রৌমারীর পূর্ব কাওয়ার চরের বাংলালিংক টাওয়ারে চরম নেটওয়ার্ক বিপর্যয়, দুর্ভোগে ১০ গ্রামের মানুষ

৪৫

মাহবুবুল আলম ফারুকী, রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার ১নং দাঁতভাঙ্গা ইউনিয়নের পূর্ব কাওয়ার চরে অবস্থিত বাংলালিংক মোবাইল টাওয়ারের নেটওয়ার্ক সেবা দীর্ঘদিন ধরে মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। টাওয়ারটির আওতাধীন পূর্ব কাওয়ার চর, চর বোয়ালমারী, টেকানি, চ্যাংটাভাড়া, ধর্মপুরসহ অন্তত ১০টি গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ প্রতিদিন ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, একসময় টাওয়ারটি থেকে সন্তোষজনক নেটওয়ার্ক সেবা পাওয়া গেলেও বর্তমানে বিদ্যুৎ চলে গেলেই পুরো টাওয়ার অকার্যকর হয়ে পড়ে। তখন ভয়েস কল, এসএমএস ও মোবাইল ইন্টারনেট—কোনোটিই ব্যবহার করা যায় না। এমনকি অনেক সময় বিদ্যুৎ থাকা অবস্থাতেও কল ড্রপ, দুর্বল নেটওয়ার্ক ও ধীরগতির ইন্টারনেটের কারণে স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

এলাকাটিতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রবাসীর পরিবার রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম মোবাইল নেটওয়ার্ক হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে নিয়মিত যোগাযোগ বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এতে পরিবারগুলোকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

বাগেরহাটের মামা-ভাগিনা ফার্মেসির স্বত্বাধিকারী রাজু আহমেদ বলেন, “বিদ্যুৎ থাকলেও ফোনে কথা স্পষ্ট শোনা যায় না। অপর প্রান্তের ব্যক্তি আমাদের কথা বুঝতে পারেন না। আর ইন্টারনেট ব্যবহার তো প্রায় অসম্ভব। বিদ্যুৎ চলে গেলে মোবাইল পুরোপুরি নেটওয়ার্কহীন হয়ে পড়ে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, টাওয়ারটিতে পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ ব্যাকআপ না থাকায় লোডশেডিং হলেই পুরো এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এতে জরুরি চিকিৎসাসেবা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং, অনলাইন ক্লাস, চাকরির আবেদন ও বিভিন্ন ডিজিটাল সেবা গ্রহণে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।

সংবাদ লেখা পর্যন্ত পূর্ব কাওয়ার চর এলাকায় বাংলালিংকের কোনো নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়নি। এমনকি এই সংবাদটি পাঠানোর জন্যও প্রতিবেদককে বাধ্য হয়ে অন্যের ওয়াই-ফাই সংযোগ ব্যবহার করতে হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলালিংকের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।

এলাকাবাসী অবিলম্বে টাওয়ারটির কারিগরি ত্রুটি দূর করে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ব্যাকআপ নিশ্চিত করা এবং মানসম্মত নেটওয়ার্ক সেবা চালুর জন্য বাংলালিংক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থার জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তারা দ্রুত সমস্যার সমাধান না হলে মানববন্ধনসহ বৃহত্তর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *