বিশ্ব বাবা দিবস: নীরব ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত পিতৃস্নেহ
মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
‘বাবা’—একটি শব্দ, কিন্তু এর ভেতরে লুকিয়ে আছে এক পাহাড়সম ভালোবাসা, নির্ভরতা এবং ত্যাগের গল্প। আজ রোববার, ২১ জুন বিশ্ব বাবা দিবস। সারা বিশ্বের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হচ্ছে দিবসটি। প্রতিটি সন্তানের কাছে তার প্রথম নায়ক ও পথপ্রদর্শককে সম্মান জানানোর বিশেষ এই দিনটি।
পরিবারের সবচাইতে বড় দায়িত্ব কাঁধে নিয়ে যিনি নিরলস পথ চলেন, তিনি বাবা। নিজের স্বপ্ন, ইচ্ছা কিংবা ব্যক্তিগত আরাম-আয়েশ বিসর্জন দিয়ে যিনি সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করেন, সেই বাবার ভালোবাসার ভাষা হয়তো অনেক সময় অস্পষ্ট থেকে যায়। মায়েদের ভালোবাসা যেমন সরাসরি প্রকাশ পায়, বাবার ভালোবাসা ঠিক তেমনই দায়িত্ববোধ ও ত্যাগের আবরণে ঢাকা থাকে।
সময়ের সাথে সাথে বদলেছে সমাজব্যবস্থা। আধুনিক জীবনে বাবার ভূমিকা এখন আর কেবল উপার্জনের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। বর্তমান সময়ের বাবাদের অংশগ্রহণ সন্তানের দৈনন্দিন যত্ন, পড়াশোনা, খেলাধুলা এবং মানসিক বিকাশের ক্ষেত্রেও সমানভাবে দৃশ্যমান। আজকের বাবা সন্তানের কাছে কেবল অভিভাবক নন, বরং এক নির্ভরযোগ্য বন্ধু ও অনুপ্রেরণার উৎস।
সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বাবা দিবস আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বাবার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য বিশাল আয়োজনের প্রয়োজন নেই। বরং একটি আন্তরিক ফোনকল, পাশে বসে গল্প করা কিংবা ভালোবাসার একটি আলিঙ্গনই বাবার কাছে হতে পারে অমূল্য উপহার। বাবারা অনেক সময় নিজেদের ক্লান্তির কথা প্রকাশ করেন না, কিন্তু পরিবারের প্রতিটি ছোটখাটো সাফল্যে তারা সবচেয়ে বেশি আনন্দিত হন।
তবে এই দিনটি সবার জন্য সমান আনন্দের নয়। যারা পিতৃহারা বা বাবার সান্নিধ্য থেকে দূরে আছেন, তাদের কাছে দিনটি স্মৃতিময় ও আবেগঘন। প্রয়াত বাবার শেখানো মূল্যবোধ ও স্মৃতিগুলো আজও অনেকের বেঁচে থাকার প্রেরণা।
বিশ্ব বাবা দিবস উপলক্ষে পৃথিবীর সকল বাবার প্রতি শ্রদ্ধা ও শুভেচ্ছা। তাদের নীরব সংগ্রাম এবং অগণিত ত্যাগের মাধ্যমেই পরিবারগুলো স্বপ্নের পথে এগিয়ে চলে। বাবা আছেন বলেই জীবনের অনেক দুর্গম পথ সহজ মনে হয় এবং ভয় জয় করার অদৃশ্য শক্তি পাওয়া যায়। কেবল আজকের দিনটি নয়, বছরের প্রতিটি দিনই হোক বাবাদের সম্মান ও ভালোবাসার।

