11:38 pm, Saturday, 20 June 2026

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবীরের মৃত্যুদণ্ড, বাকলিয়ার শিশু ধর্ষন মামলার রায়ও আজ

  • Reporter Name
  • Update Time : 10:34:20 am, Wednesday, 17 June 2026
  • 3 Time View

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত শনিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিবেশী আবীর আলী মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করে এবং পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ফেলে দেয়।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, শিশুটির জুতা এবং বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। ডিএনএ পরীক্ষাতেও আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা আদালতে দাবি করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় একটি গুদামঘরে চার বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে শিশুর পরিবার মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে। তদন্ত শেষে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে অভিযুক্তকে নিরাপত্তার মধ্যে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
আলোচিত দুই ঘটনায় আদালতের কার্যক্রম ও রায়কে ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দৈ‌নিক পত্রদূ‌ত সম্পাদক স. ম আলাউদ্দী‌নের ৩১তম হত্যা দিব‌স উপলক্ষে আলোচনা: খুনিদের বিচার দাবি।সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :শেখ মাসুদ হাসান মনি

চট্টগ্রামে শিশু আয়াত হত্যা মামলায় আবীরের মৃত্যুদণ্ড, বাকলিয়ার শিশু ধর্ষন মামলার রায়ও আজ

Update Time : 10:34:20 am, Wednesday, 17 June 2026

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

চট্টগ্রামে পাঁচ বছর বয়সী শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আসামি আবীর আলীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (১৭ জুন) চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ আলী আক্কাস বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলায় ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়েছে। গত শনিবার যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করা হয়েছিল।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর নগরের ইপিজেড থানার নয়ারহাট এলাকার বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সী কন্যা আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। পরে তদন্তে বেরিয়ে আসে, প্রতিবেশী আবীর আলী মুক্তিপণের উদ্দেশ্যে শিশুটিকে অপহরণ করে এবং পরিকল্পনা ভেস্তে গেলে শ্বাসরোধে হত্যা করে। এরপর মরদেহ ছয় টুকরো করে সাগরে ফেলে দেয়।
ঘটনার তদন্তে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত বটি, শিশুটির জুতা এবং বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করে। ডিএনএ পরীক্ষাতেও আবীরের বাসায় পাওয়া রক্তের নমুনার সঙ্গে আয়াতের ডিএনএর মিল পাওয়া যায়।
তদন্ত শেষে ২০২৩ সালের ৯ অক্টোবর আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পরিদর্শক মনোজ কুমার দে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় সাড়ে তিন বছর পর এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
অন্যদিকে চট্টগ্রাম নগরের বাকলিয়ায় চার বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার রায় আজ বুধবার ঘোষণা করা হবে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) চট্টগ্রাম মহানগর শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক সৈয়দা হাফসা ঝুমা যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে রায়ের জন্য দিন নির্ধারণ করেন।
মামলার একমাত্র আসামি মনির হোসেন (৩০) ট্রাইব্যুনালে উপস্থিত ছিলেন। তিনি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার বাসিন্দা হলেও চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় বসবাস করতেন।
রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, মামলায় ১৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন হয়েছে এবং সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে তারা আদালতে দাবি করেছেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, গত ২১ মে বাকলিয়া থানার চেয়ারম্যানঘাটা এলাকায় একটি গুদামঘরে চার বছর বয়সী শিশুটিকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে শিশুর পরিবার মামলা দায়ের করলে পুলিশ দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে। তদন্ত শেষে ৪ জুন আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয় এবং ৯ জুন অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়।
ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্তকে জনতার হাতে তুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিক্ষোভ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। পরে অভিযুক্তকে নিরাপত্তার মধ্যে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ, মেডিক্যাল রিপোর্ট ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহের মাধ্যমে স্বল্প সময়ের মধ্যেই আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়েছে।
আলোচিত দুই ঘটনায় আদালতের কার্যক্রম ও রায়কে ঘিরে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।