জলঢাকায় বেপরোয়া মাদক ও জুয়া, ধরাছোঁয়ার বাইরে মূল হোতারা
মোঃ নুরুজ্জামান নীলফামারী
নীলফামারীর জলঢাকায় দিন দিন আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে মাদক এবং ‘ফরগুটি’ ও ‘ডাবু’ জুয়ার উপদ্রব। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মাঝেমধ্যে দু-একজন সাধারণ মাদকাসক্ত বা ছোটখাটো জুয়াড়ি গ্রেপ্তার হলেও পর্দার আড়ালের গডফাদাররা থেকে যাচ্ছেন সম্পূর্ণ অধরা। ফলে অভিযানের কার্যকারিতা নিয়ে স্থানীয়দের মনে নানা প্রশ্ন ও ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
পাহারা ও পকেট ম্যানেজ করে ব্যবসা
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গোলনা ইউনিয়নের কালিগঞ্জ ফরেস্ট ঘোড়া খেলার ডাঙ্গাসহ একাধিক পয়েন্টে প্রতিদিন গভীর রাত পর্যন্ত চলে ডাবু জুয়ার আসর। স্থানীয় বাসিন্দা হরি পদ রায়সহ একাধিক সূত্রে জানা যায়, জুয়াড়িরা থানা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পয়েন্টে নিজস্ব সোর্স মোতায়েন রাখে। কমবেশি সবাইকে ম্যানেজ করে তারা নির্বিঘ্নে চালিয়ে যাচ্ছে এই ব্যবসা।
প্রতিদিন কোটি টাকার খেলা, বাড়ছে অপরাধ
পৌরসভার চেরেঙ্গা বটতলী, কালিরথান, বালাগ্রামের কাশিনাথপুর, কাঁঠালি ইউনিয়নের ধিমের ধাপ এবং কালিগঞ্জের ফরেস্ট এলাকায় বর্তমানে নিয়মিত কোটি টাকার বারমাসী জুয়ার আসর বসছে। এর প্রত্যক্ষ প্রভাবে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও সামাজিক অবক্ষয় চরম আকার ধারণ করেছে।
জনপ্রতিনিধিদের সংশ্রব ও প্রশাসনের বক্তব্য
গোলনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ওবায়দুল ইসলাম অভিযোগ করেন, “এখানে প্রতিদিন কোটি টাকার খেলা হয়। এমনকি আমাদের ২/১ জন মেম্বারও এর সাথে জড়িত এবং তারা নিজেই খেলার বোর্ডে বসেন। ওসি সাহেবকে অনেক আগে জানানো হলেও কোনো কাজ হয়নি।”
এ বিষয়ে জলঢাকা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নাজমুল আলম জানান, বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং জড়িতদের ধরার চেষ্টা চলছে। জুয়া নিয়ন্ত্রণে তিনি সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।
অবিলম্বে এসব জুয়া ও মাদকের আস্তানা পুরোপুরি উচ্ছেদ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ ও কঠোর অভিযান চালানোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

