মুন্সিগঞ্জে অতীশ দীপঙ্কর বৌদ্ধ মন্দিরে জার্নালিস্ট সুজন বেপারীকে বই উপহার।

৩৭

মুন্সিগঞ্জ প্রতিনিধি মোঃ সুজন বেপারী – মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার বজ্রযোগিনী ইউনিয়নের সোমপাড়া গ্রামে অতীশ দীপঙ্কর জন্মভিটায় মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স বৌদ্ধ মন্দিরের প্রধান পরিচালিত অধ্যক্ষ ভদন্ত করুনানন্দ থের বাড়িতে সাংবাদিক মোঃ সুজন বেপারী কে জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জীবন ও দর্শন নামে একটি বই উপহার দেওয়া হয়।

এ-সময় অতীশ দীপঙ্কর জন্মভিটায় মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স লাইব্রেরিতে আজ রবিবার ২৬ই জুলাই বেলা দুপুর বারটার দিকে সাংবাদিক মোঃ সুজন বেপারীর হাতে জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞানের জীবন ও দর্শন নামে একটি বই উপহার তুলে দেন বৌদ্ধ মন্দিরের ধর্মানুসারীরা সুজয় চাকমা, রূদ্র বড়ুয়া জয়, সুব্রত বড়ুয়া,।

উল্লেখ্য এবইটির মধ্যে জ্ঞানতাপস অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান (৯৮২–১০৫৪ খ্রিষ্টাব্দ) ছিলেন বাংলার বিক্রমপুর অঞ্চলের বজ্রযোগিনী গ্রামে জন্ম নেওয়া এক প্রখ্যাত বৌদ্ধ পণ্ডিত, ধর্মগুরু ও দার্শনিক, যিনি তিব্বতে বৌদ্ধধর্ম ও সংস্কৃতির পুনরুজ্জীবন ঘটিয়েছিলেন। তিনি সুবর্ণদ্বীপে (সুমাত্রা) দীর্ঘ শিক্ষালাভ করেন এবং বিক্রমশীলা বিহারের প্রধান আচার্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

বাংলার গৌরব অতীশ দীপংকর শ্রীজ্ঞান এক উজ্জ্বল জ্যোতিষ্ক। এক হাজার বছর পূর্বে বাংলা বা বঙ্গ অঞ্চল ছিল পালরাজাদের আদিপত্য। তাঁদের পৃষ্ঠপোষকায় বাংলা, বিহার ও অন্যান্য অঞ্চলে বৌদ্ধধর্মের উন্নতি সাধন হয়। সেই সময়কার বৌদ্ধ দর্শন এ অঞ্চল ছাড়িয়ে অন্যদেশেও প্রভাবিত হয়েছে।
পাল আমলের বৌদ্ধদর্শন জনপ্রিয়তার অত্যাধিক প্রচার ও প্রসারতা ঘটেছে। বাংলা সাহিত্যের আদি নিদর্শন চর্যাপদ সেই সময়কার একটি মাইলফলক। এখনও অনেকে বৌদ্ধ সাহিত্যেই অনাবিষ্কারকৃত পাল আমলের। পাল আমলের সৃষ্টিকর্ম বাংলা ও বিহার অন্যান্য অঞ্চলে মাটির ভূগর্ভের নিচে থেকে বৌদ্ধ বিহার বা বিশ্ববিদ্যালয় আবিষ্কৃত হয়েছে; এসব খুঁজে পাওয়া বিহারগুলোই বঙ্গের বা বাংলাদেশের ঐতিহ্য ও ইতিহাস। এসব খুঁজে পাওয়া প্রাচীন বৌদ্ধ বিহারগুলোই ছিল সমসাময়িক পাঠদান, অধ্যয়ন ও শিক্ষা অর্জনের পীঠস্থান। এসব বৌদ্ধ বিহার কেন্দ্রীক বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রখ্যাত বৌদ্ধ ভিক্ষু, বৌদ্ধ ছাত্র, বৌদ্ধ পণ্ডিত গবেষণা করেছিলেন বৌদ্ধসাহিত্য ও বিবিধ দর্শনের উপর।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *