সাভারে জমি দখল দিতে টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে মানববন্ধন, ভিডিও ভাইরাল

১৬

সাভার প্রতিনিধি

ঢাকার সাভারে আদালতের রায় অমান্য করে জমি দখলের উদ্দেশ্যে টাকার বিনিময়ে লোক ভাড়া করে মানববন্ধন করানোর অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালী একটি মহলের বিরুদ্ধে।

শনিবার (১৮ জুলাই) সকালে সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের ভাঙা ব্রিজ এলাকায় ভাড়া করা লোক দিয়ে মানববন্ধনের এই ঘটনা ঘটে।

পরবর্তীতে দুপুরের দিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করার একটি ভিডিও দ্রুত ভাইরাল হলে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। ভাইরাল হওয়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, মানববন্ধনে অংশ নেওয়া সাধারণ লোকজনকে এক ব্যক্তি টাকা বুঝিয়ে দিচ্ছেন, যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

সরেজমিনে গিয়ে ও নথিপত্র পর্যালোচনা করে জানাযায়, ভাকুর্তা ইউনিয়নের ভাঙা ব্রিজ সংলগ্ন নুরুজ্জামান নামে এক ব্যক্তির মালিকানাধীন হাউজিং প্রজেক্টের ১০০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল জোরপূর্বক দখল করে রেখেছে। এখন অবশিষ্ট আরও ২০০ শতাংশ জমি গ্রাস করার জন্য আইরিন, মাসুদ এবং স্থানীয় শিক্ষক সমিতির একটি প্রভাবশালী চক্র মরিয়া হয়ে উঠেছে বলে ভুক্তভোগী অভিযোগ করেছে। অথচ আদালতের সর্বশেষ ডিক্রি ও রায় অনুযায়ী উক্ত জমির বৈধ মালিক নুরুজ্জামান।

এ বিষয়ে জমির মালিক নুরুজ্জামান বলেন, এই জমি নিয়ে উচ্চ আদালতে আপিল হয়েছিল এবং বিজ্ঞ আদালত আমার পক্ষেই চূড়ান্ত রায় দিয়েছেন। জমির আরএস রেকর্ড সংশোধন হয়েছে। আমার নামে নিয়মিত খাজনা ও নামজারি মিউটেশন সম্পন্ন করা আছে। মূলত আমি এই জমি কিনি, কিন্তু পরবর্তীতে বাকি অংশের ক্রেতারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে আমার পুরো জমি দখলের পাঁয়তারা করছে। এর আগে বহুবার স্থানীয়ভাবে সালিশ বিচার হলেও তারা কোনো সিদ্ধান্তই মানেনি।

তিনি আরও বলেন, আমাকে সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তারা ফাঁকা মাঠে জমিটা দখল করতে পারে। সম্প্রতি আমি জামিনে মুক্ত হয়ে আসার পর, তারা মরিয়া হয়ে এখন টাকা দিয়ে লোক ভাড়া করে আমার বিরুদ্ধে এই সাজানো মানববন্ধন করিয়েছে, যার ভিডিও এখন সবার ফোনে ফোনে। প্রশাসনের কাছে আমার একটাই দাবি, আমার কাগজের আইনগত মালিকানা যেন আমাকে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

অন্যদিকে মানববন্ধনের নেপথ্যে থাকা অভিযুক্ত ব্যাক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের সুনির্দিষ্ট কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে ভাইরাল ভিডিওর বিষয়টি নজরে আসার পর স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিষয়টি খতিয়ে দেখছে বলে জানা গেছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *