বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি, বাঁশখালীতে আমীরে জামায়াত

৫৬

এনামুল হক রাশেদী, চট্টগ্রামঃ

বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ, পানিবন্দি মানুষের খোঁজখবর নেন।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, তিনি রাজনীতি করতে নয়, বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে চট্টগ্রামে এসেছেন। তিনি বলেন, মানুষের দুর্ভোগ কাগজে-কলমে বোঝা যায় না। মাঠে এসে না দেখলে তাদের কষ্ট অনুভব করা সম্ভব নয়। সরকারের উচিত দ্রুত উদ্ধার, পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করা।
১০ জুলাই(শুক্রবার) চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার গুনাগরি ইউনিয়নের বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন এবং ত্রাণ বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান গুনাগরির একটি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের মধ্যে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করেন। পরে কোমরসমান পানি মাড়িয়ে পানিবন্দি বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে বাসিন্দাদের খোঁজখবর নেন এবং ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সহায়তা তুলে দেন।
এ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা তাদের দুর্ভোগের কথা তুলে ধরেন। তারা জানান, কয়েক দিন ধরে এলাকার শত শত পরিবার পানিবন্দি রয়েছে। অনেকেই ঘর ছেড়ে স্কুল, দোকানের দোতলা কিংবা আত্মীয়স্বজনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছেন।
জামায়াত আমির বলেন, বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিরোধী দল বিষয়টি উত্থাপন করেছে এবং সরকারের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।
তিনি সাম্প্রতিক বন্যা, পাহাড়ধস ও বিভিন্ন দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
জামায়াত আমীর বাঁশখালীর গুনাগরি এলাকার ২ নম্বর ওয়ার্ডে পা রাখতেই হঠাৎ চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে “এই দাদু আসছে, দাদু আসছে বলে’ মায়াবী ডাক। কেউ রাস্তা, কেউ ঘরের বারান্দা থেকে, কেউ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র থেকে, আবার কেউ কোমরসমান পানির মধ্যে দাঁড়িয়ে প্রসারিত দুই হাত নেড়ে অন্যদের খবর দিচ্ছিলেন। কয়েকজন শিশু দৌড়ে সামনে চলে যায়। বয়স্করাও ভিড় করে রাস্তার পাশে।

‘দাদু’—এই একটি শব্দেই সবাই চিনে ফেলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানকে। নির্বাচনের আগ থেকেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এই সম্বোধন এখন অনেকের মুখে মুখে। শুক্রবার বাঁশখালীর বন্যাকবলিত এলাকায় তার সফরের সময় সেই ডাক যেন বাস্তব দৃশ্যে রূপ নেয়।

ডা. শফিকুর রহমান গাড়ি থেকে নেমে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলতে শুরু করেন। এরপর পরনের পাঞ্জাবী খোলে গেঞ্জি গায়ে সাধারনের বেশে লাবুর দোকানের পাশে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে যান। সেখানে তিন দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আশ্রয় নেওয়া শতাধিক পরিবারের হাতে নগদ অর্থ ও ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়ার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, আমি এখানে রাজনীতি করতে আসিনি। বিপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াতে এসেছি। চট্টগ্রামের বন্যা পরিস্থিতি নিজের চোখে দেখতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কথা শুনতেই এসেছি।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *