জীবননগরে নকল ‘তীর’ ব্র্যান্ডের গমের ভূষি উৎপাদন: শাহীন ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা জরিমানা
মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় নামী ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করার দায়ে শাহীন ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। বুধবার (১ জুলাই) দুপুরে পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে এ জরিমানা আদায় করা হয়।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর, চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মামুনুল হাসানের নেতৃত্বে বুধবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত জীবননগর এলাকায় এই অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানে বাজারের বিভিন্ন কীটনাশক ও পশুখাদ্যের দোকানে তদারকি করা হয়।
তদারকিকালে জীবননগর এলাকার মেসার্স শাহীন ট্রেডার্স নামক প্রতিষ্ঠানে তল্লাশি চালিয়ে দেখা যায়, প্রতিষ্ঠানটি বৈধ কোনো অনুমোদন ছাড়াই দেশের স্বনামধন্য শিল্পপ্রতিষ্ঠান ‘সিটি গ্রুপ’-এর মালিকানাধীন ‘তীর’ ব্র্যান্ডের গমের ভূষির নাম ও মোড়ক ব্যবহার করে নকল ভূষি উৎপাদন ও প্যাকেটজাত করছে। পণ্যটির মান নিয়ন্ত্রণ এবং অনুমোদনের বিষয়ে মালিক মো. সাইফুল হক সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেননি।
ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় মেসার্স শাহীন ট্রেডার্সকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানার এই অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে আদায় করা হয়েছে।
অভিযান পরিচালনাকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মামুনুল হাসান জানান, জনস্বার্থ রক্ষায় এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “কিছু অসাধু ব্যবসায়ী নামী ব্র্যান্ডের নাম ব্যবহার করে নকল পণ্য তৈরি করে বাজারজাত করছে, যা একদিকে যেমন ব্র্যান্ডের সুনাম নষ্ট করছে, অন্যদিকে সাধারণ ভোক্তাদের সাথে প্রতারণা করা হচ্ছে। আমরা কোনো ছাড় দেব না।”
অভিযান চলাকালে এলাকার অন্যান্য ব্যবসায়ীদেরও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করা হয়েছে। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে যেসব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে তা হলো:
১. অবশ্যই হালনাগাদ মূল্যতালিকা প্রদর্শন করতে হবে।
২. নির্ধারিত ও যৌক্তিক মূল্যে পণ্য ক্রয়-বিক্রয় নিশ্চিত করতে হবে।
৩. মেয়াদোত্তীর্ণ ও মানহীন পণ্য, বিশেষ করে ওষুধ ও বীজের মতো স্পর্শকাতর পণ্য বিক্রি থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতে হবে।
অভিযান পরিচালনায় সার্বিক সহযোগিতা করেছেন ক্যাব (কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) প্রতিনিধি মো. রফিকুল ইসলাম এবং জীবননগর থানা পুলিশের একটি চৌকস দল।
জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থে এবং ভেজালমুক্ত পণ্য নিশ্চিত করতে চুয়াডাঙ্গার বিভিন্ন উপজেলাসহ পুরো জেলায় এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও নিয়মিত অব্যাহত থাকবে। এই সংবাদটি এলাকায় সচেতন মহলে বেশ সাড়া ফেলেছে।
