11:23 pm, Saturday, 20 June 2026

চুয়াডাঙ্গায় জীবননগর উপজেলা আইসিটি অফিসারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

  • Reporter Name
  • Update Time : 02:56:40 pm, Friday, 19 June 2026
  • 5 Time View

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আইসিটি অফিসার (সহকারী প্রোগ্রামার) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর পৌরশহরের আশতলাপাড়ায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে আসলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত মাহমুদুর রহমান পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে জীবননগর পৌরশহরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনার বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর দুপুর ১টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতির দাবি, সকালে মাহমুদুর রহমান ছেলের জন্য খাবার কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। তার ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে বড় কোনো বিরোধ ছিল না। তবে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জীবননগর উপজেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাহমুদুর রহমান অত্যন্ত শান্ত ও হাসিখুশি একজন মানুষ ছিলেন। তবে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। সম্প্রতি নিহতের স্ত্রীর পরিবার তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছিল, যা পরবর্তীতে মীমাংসা হয়।

নিহতের পিতা আতাউর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকেও মাহমুদুর তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যুর খবর আসে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার অকাল প্রস্থান অত্যন্ত দুঃখজনক।”

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Tag :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

দৈ‌নিক পত্রদূ‌ত সম্পাদক স. ম আলাউদ্দী‌নের ৩১তম হত্যা দিব‌স উপলক্ষে আলোচনা: খুনিদের বিচার দাবি।সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :শেখ মাসুদ হাসান মনি

চুয়াডাঙ্গায় জীবননগর উপজেলা আইসিটি অফিসারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

Update Time : 02:56:40 pm, Friday, 19 June 2026

মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার আইসিটি অফিসার (সহকারী প্রোগ্রামার) ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মাহমুদুর রহমানের (৩৫) ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (১৯ জুন) সকাল ১০টার দিকে জীবননগর পৌরশহরের আশতলাপাড়ায় নিজ ভাড়া বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক তদন্তে পারিবারিক কলহের জেরে আত্মহত্যার বিষয়টি সামনে আসলেও পুলিশ বলছে, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

নিহত মাহমুদুর রহমান পার্শ্ববর্তী ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলার ঝিটকেপোতা গ্রামের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও এক সন্তানকে নিয়ে জীবননগর পৌরশহরের ওই ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।

ঘটনার বিষয়ে জীবননগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলায়মান শেখ জানান, সকালে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর দুপুর ১টার দিকে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহতের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতির দাবি, সকালে মাহমুদুর রহমান ছেলের জন্য খাবার কিনতে বাইরে গিয়েছিলেন। ফিরে এসে তিনি একটি কক্ষে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেন। দীর্ঘক্ষণ সাড়া না পেয়ে প্রতিবেশীদের সহায়তায় দরজা ভেঙে তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়। তার ভাষ্যমতে, তাদের মধ্যে বড় কোনো বিরোধ ছিল না। তবে ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন নিহতের স্বজন ও সহকর্মীরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জীবননগর উপজেলা পরিষদের একাধিক কর্মকর্তা জানান, মাহমুদুর রহমান অত্যন্ত শান্ত ও হাসিখুশি একজন মানুষ ছিলেন। তবে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তার প্রায়ই মনোমালিন্য হতো। সম্প্রতি নিহতের স্ত্রীর পরিবার তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগও করেছিল, যা পরবর্তীতে মীমাংসা হয়।

নিহতের পিতা আতাউর রহমান জানান, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকেও মাহমুদুর তার মায়ের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন। এর কিছুক্ষণ পরই তার মৃত্যুর খবর আসে।

জীবননগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তিনি বলেন, “মাহমুদুর রহমান উপজেলা পরিষদের একজন অত্যন্ত ভদ্র, শান্ত ও দায়িত্বশীল কর্মকর্তা ছিলেন। তার অকাল প্রস্থান অত্যন্ত দুঃখজনক।”

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।