সাড়ে চার মাস পর আতিকুর হত্যার আসামি গ্রেপ্তার করেছে পিবিআই!

​সাধন সাহা জয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:

​ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে চাঞ্চল্যকর সেলুনকর্মী আতিকুর রহমান (১৯) হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

পূর্ববিরোধের জেরে মাদক সেবন ও লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। এ ঘটনায় এজাহারনামীয় আসামিসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

​গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাগর (২০) এবং তদন্তে নতুনভাবে নাম আসা সাদ্দাম (৩৬) ও বোরহান (২২)।
​পিবিআই জানায়, গত বুধবার (১২ আগস্ট) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আখাউড়া উপজেলার খরমপুর কেল্লা শাহ মাজার এলাকা থেকে সাগরকে গ্রেপ্তার করা হয়।

পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার ভাদুঘর এলাকায় পিবিআই কার্যালয়ের সামনে থেকে সাদ্দাম ও বোরহানকে গ্রেপ্তার করা হয়।

​মামলার বিবরণ ও পিবিআইয়ের তদন্ত সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মার্চ রাত সাড়ে আটটার দিকে সাগর বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যান আতিকুরকে। এরপর রাত সাড়ে ১২টা ও ১টা ৩ মিনিটে নিজের মুঠোফোন থেকে মাকে ফোন করে আতিকুর জানান যে, তিনি ঈদগাহে আছেন এবং আধা ঘণ্টার মধ্যে বাড়ি ফিরবেন। এরপর থেকেই তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরদিন বাড়ি না ফেরায় স্বজনেরা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।

০১ এপ্রিল সকাল সাড়ে ছয়টার দিকে নবীনগর উপজেলার বিটঘর ইউনিয়নের মহেশপুর গ্রামের একটি যৌথ পুকুর থেকে তার ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা তাছলিমা বেগম বাদী হয়ে নবীনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

​পিবিআইয়ের তদন্তে বেরিয়ে আসে, ঘটনার রাতে আতিকুর ও সাগরসহ কয়েকজন বোরহানের ঘরে বসে মাদক সেবন ও লুডু খেলছিলেন।

একপর্যায়ে পূর্ববিরোধের জেরে আতিকুরের সঙ্গে বোরহানের কথা কাটাকাটি শুরু হয়। এর এক পর্যায়ে বোরহান আতিকুরের অণ্ডকোষে সজোরে লাথি মারলে তিনি অচেতন হয়ে পড়েন।

​পরে সাদ্দামের নির্দেশে আতিকুরকে পাশের একটি পরিত্যক্ত ঘরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে সাদ্দাম একটি কালো ওড়না এনে তার গলায় পেঁচিয়ে ধরেন এবং অন্যদের তাকে চেপে ধরতে নির্দেশ দেন। তদন্তে আরও উঠে আসে যে, ঘটনার সময় দুলাল আতিকুরের দুই পা, ইমন দুই হাত এবং বোরহান বুকের ওপর চেপে ধরে রাখেন। পরে সাদ্দাম ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

​হত্যাকাণ্ডের পর অপরাধ ঢাকতে লাশ গুমের পরিকল্পনা করা হয়। একটি বস্তায় মরদেহ ভরে সাগর নিজের মাথায় করে পুকুরে নিয়ে যান এবং পানিতে গাছের শিকড়ের সঙ্গে মরদেহটি বেঁধে রাখেন।

এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আলামত নষ্ট করতে আতিকুরের একজোড়া জুতো বাঁশঝাড়ে লুকিয়ে রাখা হয়।

​পিবিআই ব্রাহ্মণবাড়িয়ার পুলিশ সুপার শচীন চাকমা জানান, গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলার অন্য পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আলামত উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *