চুয়াডাঙ্গায় স্কুলছাত্রী মরিয়ম ধর্ষণ ও হত্যা: ঘাতকের মৃত্যুদণ্ড​মোঃ নাঈম উদ্দীনবিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।

​চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলায় চাঞ্চল্যকর তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়ম খাতুন (১০) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার দীর্ঘ আড়াই বছরের প্রতীক্ষার অবসান ঘটেছে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আজ সোমবার (২০ জুলাই) জেলার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল এই নৃশংস ঘটনার রায়ে একমাত্র আসামি আবুল হোসেনকে মৃত্যুদণ্ড ও ২ লাখ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছেন।

​ঘটনাটি ঘটে ২০২৩ সালের ২১ ডিসেম্বর। জীবননগর উপজেলার গোয়ালপাড়া গ্রামের ভ্যানচালক ইকবাল হোসেনের মেয়ে ও আঁখি প্রি-ক্যাডেট স্কুলের তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী মরিয়ম খাতুন সেইদিন দুপুরে প্রতিবেশী শিশুদের সাথে স্থানীয় হাড়িভাঙ্গা মাঠে শাক তুলতে যায়।

​মামলার বিবরণ অনুযায়ী, সেখানে উপস্থিত এক ব্যক্তি শিশুদের প্রলোভন দেখিয়ে মরিয়মকে আলাদা করে ভুট্টা ক্ষেতের দিকে নিয়ে যায়। এরপর ওই ব্যক্তি একা ফিরে এসে মরিয়ম আসছে বলে পালিয়ে যায়। সন্দেহবশত মরিয়মের মা ও প্রতিবেশীরা মাঠে গিয়ে স্থানীয় আলী হোসেনের ভুট্টা ক্ষেতে মরিয়মের গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেন। এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়লে গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে এবং ঘাতকের শাস্তির দাবিতে তীব্র আন্দোলন গড়ে ওঠে।

​ঘটনার পর মরিয়মের বাবা ইকবাল হোসেন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের আসামি করে জীবননগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পুলিশি তদন্তের এক পর্যায়ে ঘটনার ক্লু উদঘাটিত হয়। ২০২৪ সালের ৩১ অক্টোবর জীবননগর থানার উপ-পরিদর্শক সাইফুল ইসলাম তদন্ত শেষে গয়েশপুর গ্রামের আবু তাহের মোল্লার ছেলে আবুল হোসেন ওরফে ফটিককে (২৯) একমাত্র আসামি করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।

​বিচার চলাকালীন আসামি আবুল হোসেন চুয়াডাঙ্গার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলামের কাছে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় নিজের অপরাধ স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। এছাড়া, ফরেনসিক ল্যাবে আসামির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়, যার রিপোর্টও পজিটিভ আসে। ৩১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং তথ্য-প্রমাণাদি পর্যালোচনা শেষে আজ সোমবার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোক্তাগীর আলম এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।

​রায় ঘোষণার পর আদালত থেকে কঠোর পুলিশ প্রহরায় আসামি আবুল হোসেনকে কারাগারে পাঠানো হয়। রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট এম. এম. শাহজাহান মুকুল।

তিনি বলেন, “ডিএনএ রিপোর্ট এবং ১৬৪ ধারার স্বীকারোক্তি এই মামলার মূল ভিত্তি ছিল। আদালত আসামির অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তির আদেশ দিয়েছেন, এতে ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।”

​অন্যদিকে, আসামিপক্ষে স্টেট ডিফেন্স হিসেবে ছিলেন অ্যাডভোকেট ওহিদুজ্জামান মুকুল। এই রায়ের মাধ্যমে চুয়াডাঙ্গার বিচারালয় দৃষ্টান্তমূলক নজির স্থাপন করল বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *