নেছারাবাদে একই রাতে তিন বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতি, লুট প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকার মালামাল
মো. শামীম হোসাইনপিরোজপুরের নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলায় একই রাতে পৃথক তিনটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশীয় অস্ত্রের মুখে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, রুপার গহনা ও মোবাইল ফোনসহ প্রায় ২২ লাখ ৫০ হাজার টাকা মূল্যের মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে ডাকাতরা। পরপর তিনটি বাড়িতে এমন দুঃসাহসিক ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিট থেকে ৩টা ৪৫ মিনিটের মধ্যে উপজেলার স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের অলংকারকাঠী গ্রাম এবং পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছারছীনা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ১টা ২০ মিনিটে ৭ থেকে ৮ জনের একটি সংঘবদ্ধ ডাকাত দল অলংকারকাঠী গ্রামের তপু কাজীর বাড়ির পেছনের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে। ডাকাতদের কয়েকজনের মুখে মাস্ক ও গামছা বাঁধা ছিল। তারা তপু কাজীকে গামছা দিয়ে বেঁধে মারধর করে এবং দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে নগদ ৩ লাখ টাকা, তিন ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি বাটন মোবাইল ফোন লুট করে।এরপর একই দল পাশের বাড়িতে থাকা তপু কাজীর ভাই লিটু কাজীর বাড়িতে ঢুকে পরিবারের দুই মেয়ের হাত বেঁধে ভয়ভীতি প্রদর্শন করে। সেখান থেকে তারা নগদ ১২ হাজার টাকা, চার আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন, ছয় ভরি ওজনের রুপার দুটি নুপুর, দুটি রুপার চেইনসহ বিভিন্ন মূল্যবান মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়।একই রাতে রাত আনুমানিক ৩টা ১৫ মিনিটে ডাকাত দলটি স্বরূপকাঠি পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ছারছীনা গ্রামের আব্দুস সালামের বাড়িতে হানা দেয়। কাঠের দরজার ছিটকিনি ভেঙে ঘরে ঢুকে পরিবারের সদস্যদের জিম্মি করে একটি আলমারি ভেঙে নগদ ১ লাখ টাকা, প্রায় ছয় ভরি স্বর্ণালংকার ও একটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, ডাকাত দলের সদস্যদের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। তারা বরিশালের আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলছিল এবং নিজেদের মধ্যে একজনকে ‘মাস্টার’ নামে সম্বোধন করছিল। পুরো অভিযানটি অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে পরিচালনা করা হয় এবং ডাকাতরা অল্প সময়ের মধ্যেই তিনটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে পালিয়ে যায়।নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, “ডাকাতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”একই রাতে পরপর তিনটি বাড়িতে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার, রাতের টহল জোরদার এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
