বাসে প্রতারকের নাড়ু খেয়ে ৪ লাখ টাকা হারিয়ে নিঃস্ব ইদ্রিস শরীফ!”মানবেতর জীবন যাপন পরিবারের”
আলমগীর শরীফ, ঝালকাঠি প্রতিনিধি:-
ঝালকাঠি জেলাধীন রাজাপুর উপজেলার বড়ইয়া ইউনিয়নের পালট গ্রামের মৃত্যু হাজী ইসমাইল শরীফের পুত্র গাছ ব্যবসায়ী মোঃ ইদ্রিস শরীফ (৫০) ২৩ জুন ২০২৬ ইং রোজ মঙ্গলবার আনুমানিক সকাল ১১ ঘটিকার দিকে সরূপকাঠি টু পিরোজপুরগামী লোকাল বাসে প্রতারকের দেওয়া নাড়ু খেয়ে ০৪ লক্ষ ০১ হাজার দুইশত পঁঞ্চাশটাকা খোয়াইয়ে নিঃস্ব।
ইদ্রিস ও তার স্বজনদের কাছ থেকে জানা যায় যে, ইদ্রিসের ০৭ বছর বয়সে বাবা ইসমাইল শরীফ স্ত্রী, পুত্র ও দুই শিশু কন্যা রেখে নিখোঁজ হয়ে যায়!! সেই ০৭ বছর বয়স থেকেই ০৪ সদস্যের সংসারের বরণ পোষণের দায়ীত্ববার ইদ্রিসের উপর। এরই মধ্যে সংসারের অভাব অনটনের কারনে দুই বোনের মধ্যে ছোটবোন ০৫ বছর বয়সে চিকিৎসা খরচের অভাবে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যুবরণ করে! ইদ্রিসের মূল পেশাই ছিলো গাছ ব্যবসায়ীদের সাথে দিনমজুরের কাজ করা। একপর্যায়ে স্থানীয় কিছু মাবিক বিত্তবান ব্যাক্তি ইদ্রিসের সভাবচরিত্র ভালো ও সংসার পরিচালনায় অভাব অনাটন অনুভব করে তার প্রতি দয়াবান হয়ে সামান্যা শর্তসাপেক্ষে কিছু নগদ অর্থের ব্যবস্থা করে দেয়। সেই থেকে দিনমজুরী ছেড়ে দিয়ে নিজেই গাছের ব্যবসা শুরু করে, এতে ইদ্রিসের সংসার মোটামোটি ভাবে ভালো-ই চলছিল। ইতোমধ্যে ইদ্রিস বিবাহ করার কয়েক বছর পর মমতাময়ী মা-ও মারা যান! বর্তমানে ০৩ পুত্র, ০১ কন্যা ও স্ত্রী-সহ ০৬ সদস্যের সংসার ইদ্রিসের।
এরই মধ্যে গত কয়েকদিন পুর্বে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার হুলাটানা (কলারং) এলাকায় বসবাসরত ইদ্রিসের আপন চাচাতো ভাই মোঃ আবু ছাইদ ও মোঃ হানিফ শরীফ- সহ এদের ০৬ বোন মিলে ইদ্রিসের বসত বাড়ীতে ওয়ারিশ সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি জরুরী বিত্তিতে বিক্রি করার প্রস্তাব দিলে ইদ্রিস এক প্রকার দিশেহারা হয়ে উক্ত জমি ক্রয় করার সম্মতি দিয়ে ২৬ জুন ২০২৬ ইং বৃহস্পতিবার রাজাপুর সাবরেজিষ্ট্রী অফিসে দলিল সম্পন্ন করার তারিখ নির্ধারন করেন।
এরই ধারাবাহিকতায় ২৩ জুন মঙ্গলবার ফজরের নামাজ শেষে বাড়ীতে কারো সাথে কোন কিছু না বলিয়া সামান্যা দিশেহারা অবস্থায় বরিশালের সরূপকাঠিতে পাইকারি গাছক্রেতা আড়ত মালিকের নিকট বিক্রিত গাছের মুল্য ও কিছু অতিরিক্ত টাকা আনার জন্য চলেযায় এবং গাছের মুল্য ২০০০০০/- ও আড়ত মলিক থেকে লোন হিসেবে ২০০০০০/- এবং নিজের কাছে থাকা ১২৫০/- মোট= ৪০১২৫০/- টাকা নিয়ে বাসযোগে বাড়ীর উদ্যেশ্যে রওনা দিলে সরূপকাঠি হইতে ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা নৈকাঠী পর্যন্ত যেকোনো স্থানে প্রতারক পার্টির সদস্যরা নাড়ু খাওয়াইয়া অজ্ঞান করে উক্ত নগদ টাকা নিয়ে যায়!
এঘটনার ইদ্রিস অজ্ঞান থাকায় নির্ধারীত স্থান নৈকাঠিতে নামতে নাপারায় তাকে ঐ বাসে শেষ ষ্টেশন পিরোজপুরের নতুন বাসটার্মিনালে অচেতন অবস্থায় নামানো হয় এবং ওখানকার উপস্থিত লোকজন ইদ্রিসের সাথে পাওয়া বাটন মোবাইলের ডায়েল নাম্বারে ফোন দিয়ে এ অবস্থা জানালে স্বজনরা গিয়ে উদ্ধার করে রাজাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ককমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক দ্রুত বরিশাল শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শন। তাতক্ষনিক রাজাপুর থেকে বরিশাল শেবাচিমে নিয়ে ভর্তি করা হয়। ভর্তির দুইদিন পর ইদ্রিসের জ্ঞান ফিড়লে বাড়ীতে নিয়ে আসা হয়।
বর্তমানে ইদ্রিস অসুস্থ অবস্থায় বাড়ীতে স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে একপ্রকার পাগলেরন্যায় চিকিৎসা বিহীন ভাবে স্ত্রী ও শিশু সন্তানদের নিয়ে অর্ধাহারে অনাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছেন।

