সাংবাদিক খুনের আস্ফালন: কার ছত্রছায়ায় অভয় পাচ্ছে খুনি মিজান?​স্টাফ রিপোর্টার

৬৪

​গাজীপুরের চান্দনা চৌরাস্তায় সাংবাদিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত মিজানুর শেখ ওরফে কেটু মিজানের সাম্প্রতিক ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হুমকি-ধমকি স্থানীয় জনমনে তীব্র উদ্বেগ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

আদালত প্রাঙ্গণে অভিযুক্তের উচ্চারিত আপত্তিকর মন্তব্য এবং তার আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গি প্রশ্নবিদ্ধ করছে দেশের বিচারিক প্রক্রিয়াকে। জনমনে গভীর শঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, সাংবাদিক হত্যা মামলার আসামি হয়েও একজন ব্যক্তির এমন বেপরোয়া আচরণের পেছনে কোনো অদৃশ্য শক্তির ইন্ধন রয়েছে কি না। তার এই আস্ফালন কি কেবলই ব্যক্তিগত দম্ভ, নাকি নেপথ্যে থাকা প্রভাবশালী গডফাদারদের অভয়দান—তা নিয়ে সচেতন মহল এখন সোচ্চার।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অতীতেও প্রভাবশালী মহলের হস্তক্ষেপে অপরাধীরা পার পেয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, ফলে বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণে সাধারণ মানুষের মনে আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে।

গাজীপুর একটি বৃহৎ শিল্পাঞ্চল হলেও আজ এখানে সাংবাদিক, শিক্ষক ও সাধারণ শ্রমজীবী মানুষের জীবনের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। এই অবস্থায় খুনি ও তার মদদদাতাদের সমূলে উৎপাটন না করলে পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।

সাংবাদিক সমাজ ও সাধারণ জনগণের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হচ্ছে, মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে নিষ্পত্তি করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে, আসামির নেপথ্যে থাকা গডফাদারদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা জরুরি।

সাক্ষী-প্রমাণ গুম বা ভীতি প্রদর্শনের পথ যেন বন্ধ হয়, সেদিকে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।

রাষ্ট্রপক্ষকে শুধু আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করলেই হবে না, বরং অতীতের ব্যর্থতা কাটিয়ে জনগণের আস্থা অর্জনে সাহসী ও নিরপেক্ষ ভূমিকা নিতে হবে। কেবল কঠোর আইনি পদক্ষেপ এবং পারিবারিক ও সামাজিক নৈতিকতার চর্চার মাধ্যমেই একটি নিরাপদ ও শান্তিময় গাজীপুর গড়ে তোলা সম্ভব।

এই স্পর্শকাতর পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সদিচ্ছা ও শক্তিশালী অবস্থান এখন সময়ের দাবি, যাতে কোনো অপরাধীই আইনের ঊর্ধ্বে না থাকতে পারে এবং ভুক্তভোগীরা ন্যায়বিচার পান।

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *