রৌমারীতে ভুমি অফিসের ‘মনগড়া’ তদন্ত প্রতিবেদনের মিথ্যা মামলায় ভুগছে এজন নিরীহ নার্স

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি :
কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় একটি দেওয়ানি ও ফৌজদারি বিরোধকে কেন্দ্র করে সহকারী কমিশনার (ভূমি) অফিসের দাখিলকৃত তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে আদালতে একটি মনগড়া প্রতিবেদন দাখিল করেছেন এসিল্যান্ড। এ প্রতিবেদনের তীব্র আপত্তি ও না-রাজী দরখাস্ত দাখিল করেছেন বিবাদী পক্ষ। বিবাদীর দাবি, তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রকৃত সাক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ না করে বাদীপক্ষের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে সম্পূর্ণ একটি ‘মনগড়া’ ও ‘কাল্পনিক’ প্রতিবেদন আদালতে জমা দিয়েছেন।

গত ২১ এপ্রিল, ২০২৬ তারিখে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, কুড়িগ্রাম-এ এই না-রাজী আবেদনটি দাখিল করেন বিবাদী মোছাঃ হোসনে আরা খাতুন।

নথি সূত্রে জানা যায়, রৌমারী মৌজার আর.এস ১২৩ নং খতিয়ানের ৬৫৪ নং দাগের জমি নিয়ে মোঃ আশরাফ আলী (বাদী) বনাম মোছাঃ হোসনে আরা খাতুন (বিবাদী)-এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। বাদীপক্ষের অভিযোগ ছিল, বিবাদী ওই দাগের ওপর দিয়ে জনসাধারণের চলাচলের রাস্তা বেড়া দিয়ে বন্ধ করে দিয়েছেন। এই প্রেক্ষিতে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৩৩ ধারায় একটি পিটিশন মামলা (মামলা নং- ১৬৩/২০২৬ইং) দায়ের করা হয়।

বিবাদী পক্ষের দাখিলকৃত না-রাজী দরখাস্তে তদন্ত কর্মকর্তা রাফিউর রহমান (সহকারী ভূমি কর্মকর্তা, রৌমারী) এবং ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ ইসমাইল হোসেনের তৈরি করা প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর ও আইনি অসঙ্গতি রয়েছে।

হোসনে আরা দাবি করেন, বিবাদীর অভিযোগ, তদন্তকারী কর্মকর্তা নিজে বিতর্কিত নালিশী জমিতে যাননি। তিনি রৌমারী ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বসে বাদীপক্ষের দ্বারা অবৈধভাবে বশীভূত হয়ে এই ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদন প্রস্তুত করেছেন।

বাদীপক্ষ তাদের আরজীতে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করেছেন ০৬/০৩/২০২৬ইং। অথচ অলৌকিকভাবে তদন্তকারী কর্মকর্তা তার প্রতিবেদনে ঘটনার তারিখ উল্লেখ করেছেন ০২/০৩/২০২৬ইং যা সম্পূর্ণ পরস্পরবিরোধী এবং কাল্পনিক মনগড়া কাহিনীর প্রমাণ দেয়।

বাদীপক্ষ তাদের আবেদনে ১৫/২০টি পরিবারের চলাচলের রাস্তার কথা বললেও, তদন্ত কর্মকর্তা অতিউৎসাহী হয়ে প্রতিবেদনে সেটি ৫০/৬০টি পরিবার উল্লেখ করেছেন। প্রকৃতপক্ষে উক্ত রাস্তা দিয়ে বাদী এবং ১/২টি পরিবার ছাড়া অন্য কারো বাড়ি যাওয়ার যাতায়াত পথ নেই। এছাড়া দাগের পরিমাপ ও রাস্তার প্রস্থ নিয়েও আরজী ও প্রতিবেদনের মধ্যে স্পষ্ট অমিল রয়েছে।

বিবাদী পক্ষ তাদের মালিকানার স্বপক্ষে এস.এ ৩৪৪ নং খতিয়ান, এস.এ ৩০৪ নং দাগ এবং আর.এস ১২৩ নং খতিয়ানের বৈধ দলিল (দলিল নং- ৩২২৫, ১৭৮৩, এবং ১০৮৭) ও নামজারী মূলে নিয়মিত খাজনা প্রদানের প্রমাণাদি দেখালেও তদন্ত কর্মকর্তা স্কেচ ম্যাপ, সি.এস, এস.এ এবং আর.এস খতিয়ান সঠিক উপায়ে লিপিবদ্ধ না করে প্রকৃত অবস্থার বিপরীত তথ্য দিয়েছেন।

বৈধ ক্রয়সূত্রে পাওয়া নিজস্ব জমিতে বিবাদী ঘর নির্মাণ করতে গেলে বাদীপক্ষ ঈর্ষান্বিত হয়ে এই মিথ্যা মামলা সাজিয়েছেন। ভুমি অফিসের কিছু কর্মকর্তা সরেজমিনে না গিয়ে পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন দেওয়ায় বিবাদী পক্ষ অপূরণীয় ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

আদালতের নিকট বিবাদী পক্ষের জোর দাবি, এই বিতর্কিত ও পক্ষপাতদুষ্ট তদন্ত প্রতিবেদনটি বাতিল করে অন্য কোনো নিরপেক্ষ ব্যক্তি বা সংস্থার মাধ্যমে মামলাটির যেন পুনরায় সুষ্ঠু ও সঠিক তদন্ত নিশ্চিত করা হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *