মোঃ মুক্তাদির হোসেন,
স্টাফ রিপোর্টার।
ঢাকার বিমান বন্দরে ভালো বেতনে চাকুরীর প্রলোভন দেখিয়ে এক যুবককে অপহরণ করে পৈশাচিক নির্যাতনের ঘঠনা ঘটেছে । মুক্তিপণের দাবিতে ভিকটিমের শরীরে জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা, ও দা দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত করার বিভীষিকার এবং প্রানে মেরে ফেলার পরিকল্পনার অবসান ঘটিয়েছে কালীগঞ্জ থানা পুলিশ। পুলিশি অভিযানে অপহৃত যুবককে উদ্ধারসহ এই চক্রের মূল হোতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন নোয়াখালী জেলার চাটখিল থানার ইমাম হোসেন (৩৮), কালীগঞ্জ উপজেলার উত্তর পুনশহী এলাকার মো. ইমরান হোসেন (১৯) একই এলাকার মো. তারেক খন্দকার এবং ছৈলাদী এলাকার মো. আসাদুজ্জামান দুলাল (৪০)।
শনিবার (২০ জুন) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জাকির হোসেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী মো. ফরহাদুল ইসলাম (৩৩) রাজধানীর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের একটি ট্রাভেল শপে চাকুরি করতেন। সেই সুবাদে চাটখিলের ইমাম হোসেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ইমাম তাকে আরও ভালো বেতনের চাকুরির প্রলোভন দেখিয়ে গত ১৮ জুন বিকেলে কালীগঞ্জের ঘোড়াশাল ব্রিজের নিচে ডেকে আনেন। সেখানে পৌঁছা মাত্রই পূর্ব পরিকল্পিতভাবে একটি সিএনজিতে করে তারাতারি তাকে অজ্ঞাত স্থানে অপহরণ করে নিয়ে যায় সন্ত্রাসীরা।
অপহরণের পর ফরহাদুলকে একটি নির্জন কক্ষে আটকে রেখে ৫ লক্ষ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় পৈশাচিক নির্যাতন। অপহরণকারীরা স্টিলের পাইপ দিয়ে তাকে বেধড়ক মারধর করে এবং জ্বলন্ত সিগারেট দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ছ্যাঁকা দেয়। একপর্যায়ে ঘাতকরা ধারালো চাপাতি দিয়ে ফরহাদুলের ডান পায়ের হাঁটুতে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। প্রাণের ভয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষে তার বড় ভাই বিকাশের মাধ্যমে ১৫ হাজার টাকা পাঠালেও মুক্তিপণের বাকি টাকার জন্য নির্যাতন অব্যাহত থাকে।
নিখোঁজ বিষয়ে বিমান বন্দর থানায় একটি সাধারণ ডাইরি করা হয়,এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয়েছে ভিকটিম এবং অপহরণকারীরা কালীগঞ্জ থানার আওতায় রয়েছে,
কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাসুদ রানা শামীম জানান, গত ১৯ জুন ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জামালপুর এলাকায় একটি অটোরিকশা তল্লাশি কওে ভুক্তভোগী ফরহাদুলকে উদ্ধার করা হয়। এসময় হাতেনাতে দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের কাছ থেকে মুক্তিপণের ৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ২০ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে এই চক্রের আরও এক সদস্যকে গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগীর দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এবং আটককৃত আসামিদের আদালতে পেরন করেন।