কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুরে ভিটেমাটি ফেরাতে নদী খনন ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ উপকূলবাসীর দাবি”
এস.এম.মোস্তাফিজুর রহমান,আশাশুনি (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি।।ঘূর্ণিঝড় আম্পানের ভয়াল তাণ্ডবে বিধ্বস্ত সাতক্ষীরার আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর ইউনিয়নের কুড়িকাহুনিয়া ক্লোজার,শ্রীপুর ও কপোতাক্ষ নদ-তীরবর্তী জনপদের হাজারো মানুষের কান্না যেন আজও থামেনি। ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও নদীভাঙনে বিলীন হওয়া বসতভিটা,কৃষিজমি ও জীবিকার ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো। স্থায়ী পুনর্বাসন ও নদী রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগের অভাবে হতাশা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে উপকূলবাসীর।
স্থানীয়দের অভিযোগ,আম্পানের পর কুড়িকাহুনিয়া ক্লোজারের অভ্যন্তরে সৃষ্টি হওয়া বিশাল গর্ত ও ভাঙন রোধে কপোতাক্ষ নদ থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে বালু উত্তোলন করে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ভরাটের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল।
ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক আমীর ও বর্তমান ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রিয়াছাত আলীর উদ্যোগে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় ড্রেজার মেশিন স্থাপনের প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় সেই উদ্যোগ বাস্তবায়নের আগেই থমকে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা মাওলানা ইউসুফ জামিল বলেন, রাজনৈতিক বিরোধ ও আপত্তির কারণে ড্রেজিং কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। ফলে নদীভাঙনে হারিয়ে যাওয়া বসতভিটা ও আবাদি জমি পুনরুদ্ধারের স্বপ্ন ভেঙে যায়। বাস্তুচ্যুত অসংখ্য পরিবার আজও মানবেতর জীবনযাপন করছে।
বর্তমানে এলাকাবাসীর প্রত্যাশা,সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ মুহাদ্দিস রবিউল বাশারের উদ্যোগে পরিকল্পিতভাবে কপোতাক্ষ নদ খনন ও ড্রেজিং কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হবে। নদী থেকে উত্তোলিত বালু দিয়ে কুড়িকাহুনিয়া,প্রতাপনগর ও শ্রীপুর এলাকার বিলীন বসতভিটা,কৃষিজমি ও নদীভাঙনকবলিত এলাকা পুনরুদ্ধার করা গেলে হাজারো মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ লাঘব হবে বলে বিশ্বাস তাদের।
প্রতাপনগর ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী মাওঃ রিয়াছাত আলী বলেন,”নদী খনন ও পুনরুদ্ধার প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে হাজার হাজার বিঘা জমি ফিরে আসবে। বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলো নিজস্ব ভিটেমাটিতে ফিরতে পারবে। কৃষক ফিরে পাবেন আবাদি জমি,বাড়বে খাদ্য উৎপাদন,কমবে নদীভাঙনের ঝুঁকি এবং উপকূলীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সৃষ্টি হবে।”
তিনি আরও জানান,মাদারবাড়িয়া,চাকলা,সভদ্রাকাটি, রুইয়ারবিল,সনাতনকাটি হয়ে কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুর লঞ্চঘাট থেকে সাবেক চেয়ারম্যান মতিয়ার রহমানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার ওয়াপদা বেড়িবাঁধ বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। বড় ধরনের জোয়ার বা প্রাকৃতিক দুর্যোগে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।
বিশেষজ্ঞদের মতে,কপোতাক্ষ নদ খনন,নাব্যতা পুনরুদ্ধার,টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা গেলে প্রতাপনগরসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতা অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আসবে। একই সঙ্গে কৃষি উৎপাদন,পরিবেশ এবং উপকূলীয় জনজীবনে ফিরবে নতুন সম্ভাবনার আলো।
উপকূলবাসীর ভাষ্য,”আম্পান আমাদের ঘরবাড়ি কেড়ে নিয়েছে,কিন্তু আশা কেড়ে নিতে পারেনি। এখন প্রয়োজন শুধু একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সরকারি উদ্যোগ।”সেই প্রত্যাশা নিয়েই আজও দিন গুনছেন কুড়িকাহুনিয়া-শ্রীপুরের হাজারো মানুষ।##