মোঃ আতিক উল্লাহ চৌধুরী, রাউজান, চট্টগ্রাম।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাউজান: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার ২নং ডাবুয়া ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কান্দিপাড়া এলাকায় সাম্প্রতিক বন্যা ও ডাবুয়া খালের ভয়াবহ ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত অসহায় ও নিম্নআয়ের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে রাউজানের স্বেচ্ছাসেবী, সামাজিক ও শিক্ষা-সেবামূলক সংগঠন রাউজান আদর্শ ইসলামী গণপাঠাগার। সংগঠনটির উদ্যোগে গতকাল শুক্রবার (১৭ জুলাই) বিকেল ৫টায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়। একই সঙ্গে আয়োজিত আলোচনা সভা থেকে ডাবুয়া খালের ভাঙন রোধে দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানানো হয়।
মানবিক এ উদ্যোগের আওতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে চাল, ডাল, তেল, পেঁয়াজ, লবণ ও আলুসহ প্রায় ১১ কেজি ওজনের একটি করে খাদ্যসামগ্রীর প্যাকেজ তুলে দেওয়া হয়। সংগঠনের সদস্যরা জানান, বন্যার পানি নেমে গেলেও অনেক পরিবার এখনও চরম সংকটের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। সেই বাস্তবতা বিবেচনায় তাদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
খাদ্য বিতরণ শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, ডাবুয়া খালের ভাঙন এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অন্যতম প্রধান কারণ। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে খালের বিভিন্ন অংশে ভাঙন দেখা দিলে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে কৃষকদের ফসলি জমি, বসতভিটা এবং মৎস্য প্রকল্প ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অনেক সময় পুকুর ও মাছের ঘের থেকে লাখ লাখ টাকার মাছ ভেসে যায়। শত শত পরিবার পানিবন্দি হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে বাধ্য হয় এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থাও মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
বক্তারা আরও বলেন, কৃষকরা বছরের পর বছর কঠোর পরিশ্রম করে ফসল উৎপাদন করেন। কিন্তু খালের ভাঙনের কারণে মুহূর্তের মধ্যে তাদের কষ্টার্জিত ফসল ও বিনিয়োগ পানিতে তলিয়ে যায়। এতে কৃষকরা আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েন। তাই প্রতিবছর একই দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে হলে অস্থায়ী নয়, দ্রুত একটি স্থায়ী ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের বিকল্প নেই।
তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনের প্রতি দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। বক্তাদের মতে, একটি টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা হলে শুধু কান্দিপাড়া নয়, ডাবুয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকার কৃষিজমি, বসতবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মৎস্য প্রকল্প রক্ষা পাবে। পাশাপাশি প্রতি বর্ষা মৌসুমে মানুষের ভোগান্তি ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
মাওলানা হাফেজ ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে এবং মুহাম্মাদ ইরফান সোলাইমান ও হাফেজ মাওলানা মারুফের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাওলানা মুফতি ইয়াকুব, মাওলানা আইয়ুব আনসারী, ক্বারী মাওলানা আব্দুল্লাহ, হাফেজ রিদোয়ানুল হক, মোজাহেরুল ইসলাম, স্থায়ী কমিটির সদস্য মাওলানা ইমরান, মাওলানা মামুন বিন ইউনুছ, জসিম উদ্দিন সরদার, ইলিয়াস ছিদ্দিক এবং কাসেম মিস্ত্রি।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন রাউজান আদর্শ ইসলামী গণপাঠাগারের সভাপতি এম. এম. শোয়াইব আবছার, সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা হানিফ, মাস্টার ইমরান, মাওলানা রাশেদ আশরাফ, মাওলানা ইনাম বিন কাসেম, অর্থ সম্পাদক হাফেজ মাওলানা আরফাত সোলাইমান, হাফেজ হামিম, জাবেদ বিন শামস, মাহফুজুল হক, আব্দুল আজিজসহ সংগঠনের সদস্যবৃন্দ, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ।
বক্তারা শেষে সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, সামাজিক সংগঠন ও মানবিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্যা-পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমে আরও বেশি এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। পাশাপাশি ডাবুয়া খালের স্থায়ী সংস্কার ও টেকসই বাঁধ নির্মাণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেন, যাতে ভবিষ্যতে এই অঞ্চলের মানুষকে বারবার একই দুর্ভোগের শিকার হতে না হয়।