মোঃ নাঈম উদ্দীন
বিশেষ প্রতিনিধি, চুয়াডাঙ্গা।
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় বসতবাড়ি থেকে টিউবওয়েল চুরির সময় স্থানীয় জনতার হাতে আটক হওয়া এক চোরকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। শুক্রবার (১৭ জুলাই) চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ‘সামারি ট্রায়াল’ (সংক্ষিপ্ত পদ্ধতি) এর মাধ্যমে এই রায় ঘোষণা করেন।
সাজাপ্রাপ্ত আসামির নাম শাহীন শরিফ (৩০)। তিনি দর্শনা থানাধীন ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের মৃত কাশেম শরিফের ছেলে। দণ্ডবিধির আওতায় তাকে দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদানের পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) ঘুঘুডাঙ্গা গ্রামের মোঃ আব্দুর রশিদের বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে। আসামি শাহীন শরিফ কৌশলে বসতবাড়ি থেকে টিউবওয়েলটি খুলে নিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। তবে চুরির বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয়রা তাকে পিছু ধাওয়া করেন। এক পর্যায়ে গ্রামের পুরাতন বাজার সংলগ্ন এলাকায় মোঃ হারুনের মুদি দোকানের সামনের পাকা রাস্তার ওপর তাকে টিউবওয়েলসহ হাতেনাতে ধরে ফেলেন স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে দর্শনা থানার এসআই (নিঃ) প্রনব কুমার পাল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জনরোষ থেকে আসামিকে উদ্ধার করে পুলিশ হেফাজতে নেন। দর্শনা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ নজরুল ইসলাম জানান, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার জনাব মোহাম্মদ রুহুল কবীর খানের সার্বিক দিকনির্দেশনায় দর্শনা থানা এলাকায় অপরাধ দমনে পুলিশি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে এই চুরির ঘটনার পরপরই দ্রুততম সময়ে আসামিকে গ্রেফতার করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
পুলিশ জানায়, অপরাধ দমনে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির অংশ হিসেবে আটককৃত আসামিকে দ্রুত ও সংক্ষিপ্ত পদ্ধতিতে বিচারের নিমিত্তে চুয়াডাঙ্গার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে উপস্থাপন করা হয়। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক তথ্য-উপাত্ত বিচার-বিশ্লেষণ শেষে বিজ্ঞ বিচারক আসামির বিরুদ্ধে এই দণ্ডাদেশ প্রদান করেন।
দ্রুততম সময়ের মধ্যে চুরির ঘটনার বিচার ও সাজা নিশ্চিত হওয়ায় স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে। তারা পুলিশের এই তৎপরতাকে সাধুবাদ জানিয়েছেন। দর্শনা থানার ওসি মোঃ নজরুল ইসলাম আরও বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং যেকোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে দর্শনা থানা পুলিশ সর্বদা তৎপর রয়েছে।