মিজানুর রহমান (বগুড়া)
বগুড়া শিবগঞ্জ উপজেলায় জমির সংক্রান্ত বিরোধীদের জেরে মামলা চলাকালীন সময়ে অভিনব কৌশলে একটি জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলার ফেনীগ্রাম এলাকার কবরস্থান তৈরির নাম করে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে জমি দখলের এই অভিযোগ উঠেছে এনজিও ব্যবসায়ী মোজাফফর হোসেন নামের এক ব্যক্তি ও তার সাঙ্গোপাঙ্গদের বিরুদ্ধে।অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন স্থানীয় মৃত আফসার আলীর ছেলে
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিরোধপূর্ণ ওই জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান ছিল, মামলা চলাকালীন অবস্থায় অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেন আদালতকে অমান্য করে, আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কোন প্রকার তোয়াক্কা না করে তড়িঘড়ি করে জায়গাটিতে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেন এবং কৌশলে জায়গাটির নাম দেন পারিবারিক কবরস্থান।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, অসৎ উদ্দেশ্যে মামলা থাকা অবস্থায় সুকৌশলে মামলা চলাকালীন জায়গাটির নাম দেয়া হয়েছে কবরস্থান,বাউন্ডারি নির্মাণের আগে বা পরে আজ পর্যন্ত কোন মৃত ব্যক্তিকে কবর দেওয়া হয়নি, জমিটি মূলত খালি পড়ে ছিল এবং একটি পরিকল্পিত চক্র জমির মালিকানা পাকাপোক্ত করতে ধর্মীয় আবেগকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেন।
কবরস্থানের নাম ব্যবহার করাই সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতেও দ্বিধা বোধ করছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো এর আড়ালে ব্যক্তিগত জমি দখলের একটি অপকৌশল চালানো হচ্ছে।
এলাকাবাসীর দাবি যদি এটি কোন অনুমোদিত কবরস্থান না হয় তবে দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপে দখলমুক্ত করা এবং আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান তারা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী জমির মালিক এমরান হোসেন ফরহাদ শিবগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
ভুক্তভোগী ইমরান হোসেন ফরহাদ এর অভিযোগ, জমির মালিকানা দাবী করে বিবাদী পক্ষ বার বার সলিসি বৈঠক বসেও শেষ পর্যন্ত আইনি দলিল দেখাতে ব্যর্থ হয়েছেন , এমনকি বিবাদীর নিজস্ব নিয়োজিত আইনজীবীও নথিপত্র দেখে জমি পাওয়ার কোন সুযোগ নেই বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়,শিবগঞ্জে উপজেলার কিচক ইউনিয়নের চিলইল গ্রামের বাসিন্দা ইমরান হোসেন ফরহাদ ২০১২ সালের ৬ ফেব্রুয়ারী দলিলমূলে জমিটির স্বত্বাধিকারী হন। এরপর তিনি নিয়মিত খাজনা- খারিজ সম্পন্ন করে আসছেন। তবে ফেনীগ্রামের মোজাফফর হোসেন, দুলাল হোসেন, হেলাল হোসেন এবং জুলফিকার হোসেন রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জমিটি জবরদখলের চেষ্টা করছেন।
ভুক্তভোগী এমরান হোসেন ফরহাদ ফকির বলেন, বিবাদীরা এলাকায় প্রচার করছেন যে তারা ১১৩৭ নম্বর দাগের জমিতে দাবিদার। কিন্তু বাস্তবে তারা আমার মালিকানা ১১৩৫ ও ১১৩৬ দাগের জমি জোরপূর্বক দখলের পাঁয়তারা করছেন মোজাফফর হোসেন গংরা।
তিনি আরও বলেন, জমি সংক্রান্ত বিরোধ মিমাংসার লক্ষ্যে এলাকায় একাধিকবার সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মোজাফফর হোসেনের দাবির সত্যতা যাচাইয়ের জন্য সালিশি বৈঠকে তিনি নিজেই একজন আইনজীবী নিয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু সেখানে জমির সমস্ত কাগজ ও দলিল পর্যালোচনা করার পর আইনজীবী মোজাফফর হোসেনকে সতর্ক করেন। আইনজীবী জানান, যেহেতু ১১৩৫ নম্বর দাগটি তার দলিলে উল্লেখই নেই, তাই ওই জমির ওপর তার মালিকানা দাবি করার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। অর্থাৎ, আইনি যুক্তিতে বিবাদী পক্ষ পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে।
আইনিভাবে জমি পাওয়ার কোনো পথ খোলা না থাকায় বিবাদীরা এখন পেশিশক্তির আশ্রয় নিয়েছেন বলে অভিযোগ এমরান হোসেনের। তিনি জানান, গত ৫ জুলাই সকাল ১০টার দিকে জমিতে গেলে মোজাফফর গং তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং খুনের হুমকি দেন। এমরান হোসেন ও তার পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন ।
ইমরান হোসেন বলেন, আইন ও দলিল যার, জমির মালিকও তিনি। বিবাদীরা সালিশে নিজেদের আইনজীবীর কাছেই ভুল প্রমাণিত হয়েছেন, তবুও তারা জবরদখল ছাড়ছেন না। আমি প্রশাসনের কাছে জীবন ও সম্পত্তির নিরাপত্তা চেয়ে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আকুল আবেদন জানাচ্ছি।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোজাফফর হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি তার ভাই দুলাল হোসেন বলেন, আমরা বক্তব্য দিতে রাজি না। সকাল থেকে অনেক বক্তব্য দিয়েছি, যারা আমাদের বক্তব্য নিয়েছে তাদের কাছে থেকে বক্তব্য সংগ্রহ করেন।
এ বিষয়ে শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন, অভিযোগ পেয়েছি তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।