রাজশাহী জেলা
প্রতিনিধি:-
চীনা যুবকদের সাথে বিয়ে এবং চীনে গিয়ে উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বাংলাদেশী তরুণীদের পাচার করার এক ভয়াবহ চক্রের সন্ধান মিলেছে। সম্প্রতি গণমাধ্যম ‘এনটিভি (NTV) নিউজ’-এর একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এই চক্রের সাথে জড়িত এক তরুণীর চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
অভিযুক্ত ওই তরুণীর নাম মরিয়ম খাতুন বৃষ্টি। তিনি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার ৬ নং ওয়ার্ডের চাঁনপাড়া (হাজীপাড়া) গ্ৰামের আলু ব্যবসায়ী মোঃ আবুল বাশারের মেয়ে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, কয়েক বছর আগে মরিয়ম খাতুন বৃষ্টি নিজেই একজন চীনা নাগরিককে বিয়ে করেন। বিয়ের পর চীনে যাওয়ার পর থেকেই তিনি মূলত এই আন্তর্জাতিক নারী পাচার চক্রের সাথে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে দেশের সরল-সোজা ও মধ্যবিত্ত পরিবারের তরুণীদের টার্গেট করতে শুরু করেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বৃষ্টির আইডি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, তিনি বিভিন্ন ম্যারেজ মিডিয়া বা বিয়ের গ্রুপগুলোকে ফাঁদ হিসেবে ব্যবহার করেন। সেখানে চীনা যুবকদের লোভনীয় ও আকর্ষণীয় বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে নিয়মিত পোস্ট করতেন তিনি।উন্নত জীবনের আশায় তরুণীরা যখন এই ফাঁদে পা দেয়, তখন অভিভাবকদের মোটা অঙ্কের টাকার প্রলোভন ও ভবিষ্যতের সোনালী স্বপ্ন দেখানো হতো। এরপর বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে চীনে নিয়ে গিয়ে তরুণীদের মূলত পাচার ও বন্দি করে দেওয়া হতো বলে অভিযোগ উঠেছে। এই পুরো প্রক্রিয়ার বিনিময়ে চক্রটি হাতিয়ে নিতো মোটা অঙ্কের টাকা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এটিই মরিয়ম খাতুন বৃষ্টির প্রথম অপরাধ নয়। এর আগেও তিনি বাগমারার বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক তরুণীকে একই কায়দায় চীনা যুবকদের সাথে বিয়ে দিয়ে চীনে পাচার করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি এই অন্ধকার ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন।
এনটিভি নিউজের এই প্রতিবেদনের পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এই আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের সাথে জড়িত মরিয়ম খাতুন বৃষ্টিসহ তার সহযোগীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।